ফ্রি কিকে যেভাবে বাঁক খায় ফুটবল

14

মনে করে দেখুন এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই ফ্রি কিক, অথবা সুইডেনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে টনি ক্রুসের ফ্রি কিকটির কথা। ফ্রি কিকের বল বাতাসে এতখানি বাঁক খেয়ে বিপক্ষ খেলোয়াড়দের দেয়ালকে বোকা বানিয়ে কীভাবে গোলবারে ঢুকে যায়? এই ‘সোয়ার্ভিং ফ্রি কিকের’ ব্যাপারটা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন ১৯৫০-এর দশকের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ডিডি। ডিডিই প্রথম ব্যাপারটা খেয়াল করেন, যদি এমনভাবে শট নেওয়া যায় যে, বলটা ঘুরতে ঘুরতে যাবে তাহলে বাতাসে তার গতিপথ অনেকখানি বেঁকে যায়।
তখনকার দিনের যে চামড়া দিয়ে ফুটবল বানানো হতো তা খুব পানি শুষে নিত, ভিজলেই বলটা ভারি হয়ে যেত। তাই ইউরোপে, যেখানে শীতকালে অনেক বৃষ্টি হয়, সেখানে বল বাতাসে তেমন ঘুরত না। কিন্তু ব্রাজিলের মতো ল্যাটিন আমেরিকান দেশে গরম এবং শুকনো আবহাওয়ায় সে রকম সমস্যা ছিল না। তাই এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে, এই টেকনিক দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলেই আবিষ্কৃত হয়েছিল।
১৯৬০-এর দশকে এক বিরাট পরিবর্তন আসে ফুটবল বানানোর ক্ষেত্রে। এমন সিনথেটিক সামগ্রী দিয়ে বল তৈরি হতে থাকে, যা ভিজলেও পানি শুষবে না। তাই কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপের খেলোয়াড়রাও শিখে গেলেন কীভাবে ডিডির মতো বাঁকানো ফ্রি কিক নিতে হয়। ব্যাপারটার পেছনে আছে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র। একটা ফুটবল যখন বাতাসে ঘুরতে ঘুরতে যায়, তখন তা পেছনের অংশে বাতাসের আলোড়ন তৈরি হয়, আর সামনে ও দুই পাশে বাতাসের চাপের একটা পার্থক্য তৈরি হয়, যা বলের গতিপথকে বাঁকা করে দেয়।
ফুটবলের পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে ড. কেন বে বলেছেন, বিজ্ঞানীরা দেখলেন ফুটবলের প্যানেল সংখ্যা যত বেশি হবে, বাতাসে বলের গতিপথ ততই স্থিতিশীল হবে অর্থাৎ কম বাঁক খাবে। কিন্তু প্যানেল যদি কম হয়, আর তার সঙ্গে বলটা যদি বাতাসে ঘোরে তাহলে তা বেশি বাঁক খাবে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কতটা বাঁক খাবে তা অনেকখানি নির্ভর করে যে খেলোয়াড়টি ফ্রি কিক নিচ্ছেন, তিনি শট নেওয়ার সময় বলটিকে কতখানি ঘোরাতে চাইছেন তার ওপর। যদি ঘূর্ণন বেশি হয় তাহলে বলটা একটা স্বাভাবিক বাঁক নেবে।
আর যদি ঘূর্ণন কম হয় তাহলে বলটা অপ্রত্যাশিত রকমের বাঁক নিতে পারে, যা গোলরক্ষকদের আন্দাজ করা খুবই কঠিন। ফ্রি কিক নিতে ওস্তাদ খেলোয়াড়রা নানাভাবে বলকে স্পিন করাতে পারেন, অনেকটা বেসবল বা ক্রিকেটের বোলারদের মতোই।
ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরি বা ব্রাজিলের রোনালদিনহোও সাইড স্পিন দিতে দক্ষ ছিলেন। আর ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যামের অস্ত্র ছিল টপস্পিনের মতো একটা কৌশল। যাতে বলটাকে খুব বেশি ঘুরতে দেখা যেত না, কিন্তু এটা যে কীভাবে কতখানি বাঁক নিতে যাচ্ছে, তা বুঝতে হয়রান হয়ে যেতেন গোলরক্ষকরা।