ফোর এইচ গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

পুলিশের লাঠিচার্জ সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

37

ফোর এইচ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর দুইদিন পর বিষয়টি শ্রমিকদের জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে নগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুছড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন ওই কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হন এক জাতীয় দৈনিকের ফটো সাংবাদিক জুয়েল শীল।
গতকাল বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় এএসআই শরীফুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুছড়ায় ফোর এইচ গ্রুপের পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর দুইদিন পরে জানানোর প্রতিবাদে বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সরাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় সরকারি দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শ্রমিক।
এদিকে শ্রমিকদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করার সময় ছবি তুলতে যান প্রথম আলোর আলোকচিত্রী জুয়েল শীল। এ সময় বায়েজিদ থানা পুলিশের এএসআই শরীফুলের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হন তিনি।
জুয়েল শীল জানান, বিক্ষোভরত নারী শ্রমিকদের উপর পুলিশের পুরুষ সদস্যরা লাঠিচার্জ করছিল। আমি তখন ছবিটি তুলেছি। এ সময় পুলিশের এক সদস্য এসে আমাকে ছবি তুলতে বারণ করেন। তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে এএসআই শরীফুলের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে আমার ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেন এবং আমাকে ঘাড় ধরে লাঞ্ছিত করেন। এরপর তারা আমার ক্যামেরার ছবিগুলো মুছে ফেলেন।
বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান পূর্বদেশকে জানান, বহিরাগত কিছু লোকের উস্কানি ও গুজবে উত্তেজিত হয় শ্রমিকরা। এরপর বালুছড়া সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেই।
শ্রমিকদের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বহিরাগত কিছু লোক শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে ঘটনাটা ঘটিয়েছে।
সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাথে আমরা একসাথে কাজ করি। এখানে ফটো সাংবাদিক জুয়েলের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সেটি আমরা সমাধান করে ফেলব।
এদিকে গতরাত সাড়ে ১০টার দিকে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক জানান, সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে প্রাথমিকভাবে এএসআই শরীফুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।