ফেসবুক ভর্তি ভুয়া তারকা!

11

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যতম জনপ্রিয় ফেসবুক। এর কল্যাণে দুনিয়াজুড়ে যোগাযোগটা এখন হাতের মুঠোয়। হাজার হাজার মাইলকে জয় করে নিয়েছে মানুষ। ইচ্ছে হলেই কথা বলা যাচ্ছে, ছবি পাঠানো যাচ্ছে, ভিডিও কল দিয়ে দেখাও যাচ্ছে ফেসবুকের সহযোগী অ্যাপস ম্যাসেঞ্জারে।
সহজলভ্য এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় আশংকাজনকভাবেই সহজ হয়ে গেছে সম্পর্ক। হৃদয়ে হৃদয়ে টান নেই, স¤প্রীতির মজবুত বন্ধন নেই। মূল্য হারাচ্ছে ভালোবাসাবাসির।
আর সবার মতো ফেসবুক ব্যবহার করেন নানা অঙ্গনের তারকারাও। ফেসবুকে ইচ্ছেমতো দর্শক বা ভক্তরা প্রিয় তারকার সঙ্গে আড্ডা মারছেন, ছবি দেখছেন রোজ রোজ। এতে তারকার সঙ্গে ভক্তদের দূরত্ব কমছে ঠিকই, কমে যাচ্ছে তারকাদের প্রতি আগ্রহটাও। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। অনেক কাটছেঁড়া হয়েছে তারকাদের যত্রতত্র ফেসবুক ব্যবহারের অসুবিধা নিয়ে।
আজকের বিষয় ফেসবুক জুড়ে ভুয়া তারকার ছড়াছড়ি। হয়তো প্রশ্ন আসে, তারকা আবার ভুয়া কেমন করে হয়? উত্তরটা খুব সহজ। ফেসবুকে রোজ রোজই দেখা যায় নানা তারকার নামের ভুয়া আইডি ও পেজ। যারা আসল-নকলের ফারাকটা ধরতে পারছেন না তারা ভুয়াকেই আসল বলে ধরে নিচ্ছেন। বন্ধুত্বে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, কেউ আবার ভুয়া আইডি থেকে আমন্ত্রিত হয়ে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণও করছেন। ভুয়া পেজে লাইক দিয়ে অন্যের ব্যবসায়িক ফায়দায় সুযোগ করে দিচ্ছেন।
এইসব ভুয়া আইডি ও পেজ থেকে ছড়ানো হয় নানা রকম বিভ্রান্তি, গুজব। অনেকে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন কৌশলে। সেই প্রতারণার দায় নিতে হয় সত্যিকারের তারকাকে। এরকম ঘটনা অনেক ঘটেছে। সেসব নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও হয়েছে। ‘অমুক তারকার নামে ভুয়া আইডি খোলে টাকা আত্মসাৎ’, ‘ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে বিব্রত অমুক তারকা’… ইত্যাদি।
হতাশার ব্যাপার হলো, এতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় ভুয়া আইডি ও পেজ ব্যবহার করা চক্র। বরং দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। ফেসবুকে জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, রিয়াজ, মৌসুমী, শাবনূর, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, পূর্ণিমা, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, শাকিলা জাফর, আসিফ আকবর, জেমস, মনির খান, শাকিব খান, ফেরদৌস, মিশা সওদাগর, হাবিব ওয়াহিদ, কাজী মারুফ, মোনালিসা, তিন্নি, সালমা, ন্যানসি, কনা, পড়শী, অপু বিশ্বাস, বুবলী, সজল, অপূর্ব, মেহজাবীন, পরীমনি, মাহি, আরেফিন রুমি, সাইমন, বাপ্পী চৌধুরী, আরিফিন শুভ, তানজিন তিশা, সিয়াম আহমেদসহ জনপ্রিয় অসংখ্য তারকাদের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি দেখা যায়। সেসব নিয়ে তারকারা বিরক্তি প্রকাশও করেছেন।
সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো অনেক ক্রিকেট তারকাও রয়েছেন এই তালিকায়।
এইসব তারকাদের মধ্যে শাবনূর, মোশাররফ করিমসহ অনেকে ফেসবুকই ব্যবহার করেন না। অনেকে ব্যবহার করলেও খুব একটা নিয়মিত নন। তবে অনেকেই রয়েছেন যারা নিয়মিতই আপডেট রাখেন নিজেদের ওয়াল। তারা সতর্কবার্তা দেন ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে। তবুও অসচেতন ভক্ত অনুরাগীরা ভুয়া ও সঠিকের পার্থক্যটা বুঝে উঠতে পারেন না। প্রিয় তারকার ফেসবুক আইডি দেখেই সেখানে ভিড়ে যান।
একটা সময় হালের ক্রেজ সব তারকাদের নামে ভুয়া আইডি হতো। স¤প্রতি ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে সিনিয়র তারকাদের নামেও মিথ্যে আইডির ছড়াছড়ি। উল্লেখ করা যায়, চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াত, অভিনেতা আহমেদ শরীফ, ডলি জহুর, সহ অনেকের নাম। চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা, রোজিনার নামে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভুয়া আইডি। আদতে এই তারকারা মোটেও ফেসবুক ব্যবহার করেন না।
নতুন করে ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে চঞ্চল চৌধুরী, তানজিন তিশা, পরীমনির ভুয়া আইডির উৎপাত। তিন তারকাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে তাদের ভক্ত-অনুরাগীদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
কী উদ্দেশ্যে চালানো হয় এইসব ভুয়া আইডি। বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কারণকেই দায় দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে এগিয়ে তারকাদের নাম ভাঙিয়ে ফলোয়ার বাড়িয়ে আইডির ব্যবসা করার প্রবণতা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পরীমনি দেশের জনপ্রিয় তারকাদের অন্যতম একজন। তার নামে একটি আইডি খোলা হলে রাতারাতি সেখানে ফলোয়ার বাড়তে থাকে। নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার ফলোয়ার হয়ে গেলে নাম পাল্টে দিয়ে আইডিটি বিক্রি করে দেয়া হয়। এইক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইডির চেয়ে পেজকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
এরপরই রয়েছে তারকাদের নামকে টোপ বানিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া। নানা রকম বø্যাকমেইলিংও এর অন্তর্ভূক্ত। পুরুষ তারকাদের ভুয়া আইডি চালু করে নারীদের যৌন হয়রানিও করা হয়ে থাকে।
তারকাদের দাবি, এইসব ভুয়া আইডি ও পেজের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সক্রিয় হওয়া উচিত। পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে ভুয়া আইডি ও পেজ নির্বাচনে।