ফুল মামা

সরোজ আহমেদ

67

দেখতে দেখতে গ্রীষ্মের ছুটি প্রায় শেষ। আর ক’দিন পরেই আবার শুরু হবে সেই যুদ্ধ। স্কুল, কোচিং, ড্রইং, আবৃত্তি আর নাচের ক্লাসের জন্য সারাদিন ছোটাছুটি। এবারের ছুটির দিনগুলি বাসার চার দেয়ালের ভেতরেই কেটে গেল! একদিনের জন্যও কোথাও যাওয়া হল না। তানিফের প্ল্যান ছিল, এবার ছুটির দিনগুলো দাদুর বাড়িতেই কাটাবে। ইছামতির মেলায় যাবে, পারকি সমুদ্র সৈকতে যাবে, লাল পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ঘুড়ি উড়াবে, কাঁচা আমের ভত্তা খাবে। আরো কতই না আনন্দ করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হল না।
তানিফের আব্বু তুষার সাহেবের অফিসে কী যেন একটা ঝামেলা চলছে। তাই প্রতিদিন তুষার সাহেব সেই সকালে বেরিয়ে যান, আর ফিরেন অনেক রাত করে। আব্বুকে কিছু বলবে তারও কোনো সুযোগ নেই। সব আবদার-অভিযোগ মা’র কাছেই। মাঝে মাঝে দাদুর বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরতে ছোট বোন তাহিকে উশকে দেয় তানিফ। মাত্র আড়াই বছরের ছোট্ট তাহি অতশত বোঝে না। ভাইয়া কিছু একটা শিখিয়ে দিলেই সারাদিন তা আওড়াতে থাকে মায়ের কাছে।
ছেলে-মেয়ে দুটোর যন্ত্রণায় মা আর পেরে ওঠে না। চেঁচিয়ে ওঠেন ‘সারাদিন ঘ্যান ঘ্যান করিস নাতো! এক কথা কতবার বলতে হয়? আব্বু’র অফিসের ঝামেলা মিটে গেলেই বেড়াতে যাবো।’
ওদেরই বা কী দোষ? দিনের পর দিন ব্যস্ত শহরের ইট-কাঠের চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাহতক ভালো লাগে! এই বয়সে কোথায় একটু ছোটাছুটি করবে, ঘোরাঘুরি করবে, সবুজ খোলা প্রান্তরে খেলবে, দৌঁড়াবে- তা না। কেবল চার দেয়ালের ভেতরেই যেন জীবনের সবটুকু! তার ওপর ধরা-বাধা নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট এসব কচিকাচা শিশুরা। সকালে স্কুল, দুপুরে প্রাইভেট, বিকেলে আর্ট ক্লাস, সন্ধ্যায় নাচ-গান, আবৃত্তি, রাতে হোম ওয়ার্ক- এই তো জীবন।
সকাল থেকেই রিডিংরুমে মন বেজাড় করে বসে আছে তানিফ। হঠাৎ মা রান্নাঘর থেকে বলে ওঠলেন- ‘কইরে তোমরা? কিছুক্ষণের মধ্যে তোদের ফুল মামা আসবে।’
‘ফুল মামা আসবে, সত্যি বলছো মা?’ দৌঁড়ে গিয়ে মায়ের কাছে জানতে চাইলো তানিফ।
‘হুম। সত্যি। এইমাত্র ফোন করে বলল, কদমতলি স্টেশন থেকে সোজা এদিকেই আসছে।’
কী মজা, কী মজা ফুল মামা আসছে- বলে খুশিতে লাফাতে শুরু করে তানিফ। সঙ্গে তাহিও।
ইশতিয়াক রহমান খান তাসরিফ ওরফে ফুল মামা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল সাইন্সের ছাত্র। এই মামার অনেকগুণ। পড়াশুনার পাশাপাশি অনেক কিছুই করেন। গল্প, উপন্যাসের বইও বেরিয়েছে বেশ ক’টি। আবার থিয়েটারের সঙ্গেও জড়িত। আবৃত্তি, উপস্থাপনাও করেন ভালো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই ডাক আসে ফুল মামার। সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বেশ চেনামুখ। এত ব্যস্ত তিনি। তারপরও বাড়ির মায়া ছাড়তে পারেননি এতটুকু। সময় সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন প্রিয় জন্মভূমি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।
তবে চট্টগ্রামে পা রেখেই প্রথম ঢুঁ মারেন প্রিয় বোন, ভাগিনা-ভাগিনীর বাসায়। তারপর নিজের বাড়ি।
তানিফ-তাহিও ফুল মামার জন্য অন্তপ্রাণ। মামাকে পেলেই ওদের আর কিচ্ছু চায় না। হাসি-আনন্দে কেটে যায় সময়। ওরা তখন নাওয়া-খাওয়াও ভুলে যায়।
ফুল মামা এমন সব মজার মজার গল্প বলেন, সারাক্ষণ কেবল শুনতেই মন চায়। তানিফের অবাক লাগে, মামা এতসব গল্প কোত্থেকে যে বলে! একটার পর একটা বলছে তো বলছে, যেন শেষ নেই। মনে হয়, মামার পেটে মস্তবড় এক গল্পের ফ্যাক্টরি আছে।
তানিফের বন্ধু রাইয়াদ, পুনক, প্রিয়ন্ত, রাফি, কল্লোল, সিমি- সবাই ফুল মামার দারুন ভক্ত। মামাকে পেলেই আর পিছু ছাড়বে না। সবাই দল বেঁধে মামার সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠবে।
আচ্ছা, এতক্ষণ ধরে যে ফুল মামার কথা বলছি, তোমরা কি জানো? তানিফের এই মামার নাম ‘ফুল মামা’ কেন হল?
হুম। জানো না, এইতো? খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাই না?
তবে শোনো, সবকিছুর পেছনে কোনো না কোনো একটা কারণ থাকে। আর এসব কারণগুলোর বেশিরভাগই কিন্তু ভারি মজার। যেমন-এমবিবিএস কালাম। তারমানে কালাম ডাক্তারী পাশ করেছে বলেই তার নামের আগে এমবিবিএস পদবি লাগানো হয়েছে তা নয়। কোনো কাজ-কর্ম নেই বলে বন্ধুরা মজা করে কালামকে এমবিবিএস বলে ডাকে। অর্থাৎ এমবিবিএস মানে, মা-বাবার বেকার সন্তান।
যেমন- টিটিসিএম। অর্থাৎ টো টো কোম্পানির ম্যানেজার। এরকম আরও অনেক মজার মজার নাম শুনতে পাবে- জর্দ্দা বকুল, ট্যারা নকুল, টেম্পু সগির, মোবাইল জমির, লাকড়ি ফারুক, ছমুচা রতন, চাপা জয়নুল, লম্বু দুলাল, ভাঙ্গা কালু, সাদা মানিক, বালু কাশেম ইত্যাদি।
তেমনি তানিফের ছোট মামা কেন ফুল মামা হলো-এর পেছনেও একটা কাহিনী আছে। তা হলো, ছোট মামা তাসরিফ ফুল খুব ভালবাসেন। সেই ছোটবেলা থেকেই বাড়ির আঙ্গিনায় ফুলের বাগান করা, ফুল কুড়ানো, ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, ফুল নিয়ে লেখালেখি, গবেষণা ইত্যাদি কারণেই বন্ধুরা নাম দিয়েছে ফুল মিয়া। আর তানিফরা ডাকেন ফুল মামা।
মামা আসছে শুনে রাইয়াদ, পুনক, প্রিয়ন্ত, রাফি, কল্লোল, সিমিরাও এসে হাজির। আজ আড্ডায় তাদের সঙ্গে আরও দু’জন অতিথি যোগ হয়েছে। রাফির মামাত ভাই আরমান এবং তার বোন পক্কি।
ফুল মামা সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে বসলেন। তারপর শুরুতেই প্রশ্ন করলেন, ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর বস্তু কি?’
কেউ বললো চাঁদ। কেউ বললো আকাশ। আর কেউ কেউ বললো সাগর-নদী ইত্যাদি।
ফুল মামা হেসে বললেন, ‘গুড। সবাই ঠিক বলেছো। তবে তোমরা যা বললে, সেগুলো আমাদের হাতের কাছে নেই। আমরা চাইলেই তা ছুঁতে পারি না। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি খুব সুন্দর বস্তু আছে, যা আমরা ছুঁতে পারি, ঘ্্রাণ নিতে পারি, সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ব্যবহার করতে পারি। সেই জিনিসটার নাম কিন্তু কেউ বলতে পারলে না?
মামার কথা শোনে সবাই ভাবতে শুরু করল। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে দেখে মামা মুচকি হাসলেন।
হঠাৎ তানিফ হাত তুলে বললো, ‘মামা, আমি বলতে পারবো, ফুল।’
‘ভেরি গুড। ফুল হলো এ পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর বস্তু। যুগ যুগ ধরে ফুলকে মানুষ কখনো রূপের, কখনো গুণের সুন্দর উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কারণ ফুল দেখলে এবং ঘ্রাণ নিলে মানুষ আনন্দ পায়। শুধু তাই নয়, অনেক ফুল জীবন রক্ষার ওষুধ তৈরির কাজেও লাগে।’
পুনক বললো, ‘বিভিন্ন পূজোয়, উৎসবে ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, মালা তৈরি করা যায় জানতাম। কিন্তু ওষুধ তৈরি হয়, জানা ছিলনা।’
ফুল মামা বললেন, ‘শুধু কি তাই। ফুল এতই আকর্ষণীয় বস্তু, আমাদের হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যে সেই প্রাচীনকাল থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত ফুলের কথা লেখা হয়েছে। তোমরা বড় হয়ে বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করলে দেখবে, মধ্যযুগের কবি-সাহিত্যিকরা শত শত বছর ধরে কবিতা, গল্প-উপন্যাস রচনা করে বাংলা সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার গড়ে তুলেছেন। আর সেখানে সবশ্রেণির কবিতা ও সাহিত্যে ফুলের কথা আছে। আচ্ছা, এবার তোমাদের কেউ একজন ফুল নিয়ে একটা কবিতা বলতো?
‘আমি বলবো মামা?’ প্রথমে হাত তুললো রাফি। এরপর প্রিয়ন্ত।
ফুল মামা বললেন, ‘ঠিক আছে, আগে হাত তুলেছে রাফি। রাফি বলো।’
আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা
ফুল তুলিতে যাই
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
মামার বাড়ি যাই।
‘বাহ চমৎকার। এবার প্রিয়ন্ত বলতো, এই চমৎকার কবিতাটি কার লেখা?’
প্রিয়ন্ত বললো, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।’
‘ভেরি গুড।’ ফুল মামা প্রিয়ন্তের পিঠে হাত চাপড়ালেন। এরপর বললেন, ‘কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর বিখ্যাত ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ কবিতায় বাংলার সৌন্দর্য প্রকাশের উপকরণ হিসেবে ফুল ব্যবহার করেছেন-
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি,
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে
তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ফুলের নামে একটি কবিতার বই ‘মহুয়া’ এবং ‘রক্তকরবী’ নামে একটি নাটক লিখেছেন। এছাড়া তিনি হাজার হাজার গান ও কবিতায় ফুলের কথা লিখে গেছেন। তেমনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘দোলন-চাঁপা’ ও ‘ফণিমনসা’ নামে দুটি কবিতার বই, ‘ঝিঙে-ফুল’ নামে একটি শিশু সাহিত্য, ‘শিউলী মালা’ নামে একটি গল্পগ্রন্থ, ‘গীতি শতদল’ এবং ‘রক্তজবা’ নামে দুটি গানের বই রচনা করেছেন। আর শত শত গান ও কবিতায় ফুলের কথা অসংখ্যবার বলেছেন এই কবি।
বাংলা সাহিত্যের আরেক বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশ ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যে বাংলার অজ¯্র প্রকার ফুলের কথা লিখেছেন। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি বিখ্যাত অনুবাদ কবিতা ‘ফুলের ফসল’। একটি হাদিস অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেছেন-
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিয়ে, ক্ষুধার লাগি
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে
ফুল কিনে নিয়ো হে অনুরাগী।
বিখ্যাত ‘কাজলা দিদি’ কবিতার কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী কবিতায় শোকাচ্ছন্ন এক পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন-
পুকুর ধারে নেবুর তলে
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা
একলা জেগে রই
মাগো আমার শোলক বলা
কাজলা দিদি কই।
এ কবিতা থেকে লেখক হুমায়ুন আজাদ তাঁর বইয়ের নাম রেখেছেন ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’। তেমনি কবি গোলাম মোস্তফা, সুফিয়া কামাল, দার্শনিক কবি সুধীন্দ্রনাথ, রোমান্টিক কবি বুদ্ধদেব বসু, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কবি ফররুখ আহমদ, কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাকবি কায়কোবাদ, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, কবি কামিনী রায়, আধুনিক ধারার কবি শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও কবি শহীদ কাদেরীসহ অগণিত কবি-সাহিত্যিক ফুলের সৌন্দর্যকে নানা উপমায় বর্ণনা করেছেন। এসব লেখা তোমরা বড় হলে নিজেরাই সংগ্রহ করে পড়তে পারবে নিজের রুচি অনুসারে। আগামীতে হয়তো তোমরাও ফুল নিয়ে অনেক কিছু লিখবে। এতে বাংলা সাহিত্যের বিশাল ভাÐার নতুন নতুন রচনায় আরো সমৃদ্ধ হবে।
ফুল মামার মুখে যেন খৈ ফুটছে। ফুল নিয়ে বলছে তো বলছে। শেষ হচ্ছে না। সবাই তন্ময় হয়ে ফুলের গল্প শুনছে আর ভাবছে, মামা ফুল নিয়ে এতকিছু জানে! না জানি এ নিয়ে কত পড়াশুনা করেন তিনি।
‘কিগো মামারা, ফুলের কথা শুনতে বিরক্ত লাগছে?’
সবাই একসঙ্গে বলে ওঠলো, খুব ভাল লাগছে, মামা। আরো শুনতে চাই।
‘বেশ। তবে শোন। এতক্ষণ বললাম ফুল নিয়ে কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং গানের কথা। কিন্তু আমরা কি জানি, পৃথিবীতে ফুলের সংখ্যা কত?’
‘মামা কত?’ কল্লোল আর তানিফ পাল্টা প্রশ্ন করলো মামাকে।
‘বিজ্ঞানীদের মতে আড়াই লাখের বেশি।’ মামার কথায় সবাই অবাক। একে অপরের মুখের দিকে তাকাল। মামা হেসে বললেন, ‘অবাক লাগছে, তাই না? আচ্ছা, তোমরা গোলাপ ফুল তো চেনো। গোলাপকে বলা হয় ফুলের রানী। পৃথিবীতে কেবল গোলাপের সংখ্যা-ই আছে পাঁচ হাজারের মতো। পৃথিবীতে এত বর্ণিল এবং বিচিত্র ধরণের ফুল আছে যার একাংশও আমরা চিনি না। জানি না। তবে আমরা কিছু ফুলের নাম জানি এবং চিনি। বিশেষ করে গোলাপ, গাঁদা, শিমুল, রজনীগন্ধা, রক্তজবা, জুঁই, বেলী, শাপলা, পদ্ম, বকুল, গন্ধরাজ, কনকচাঁপা, দোলনচাঁপা, শেফালী, পলাশ, চন্দ্রমল্লিকা, মান্দার, কদম, কৃষ্ণচূড়া, হাস্নাহোনা, সূর্যমুখী, অপরাজিতা, নয়নতারা ইত্যাদি।’
রাইয়াদ বললো, ‘আচ্ছা মামা, পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র ফুল কোনটি?’
ফুল মামা হেসে বললেন, ‘ভেরি গুড। এতক্ষণে সুন্দর একটা প্রশ্ন করলে। শোন, পৃথিবীর বৃহৎ ফুলের নাম র‌্যাফলেসিয়া আর্নল্ডি। সুদূর সুমাত্রার এক জঙ্গলে ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে ফুলটি আবিস্কৃত হয়। ফুলের রং অনেকটা বাদামি। গন্ধটা পচা মাংসের মতো। এ ফুলের সাধারণত পাঁচটি পাঁপড়ি থাকে। ফুলের ব্যাস দেড় থেকে তিনফুট পর্যন্ত হয়। আর এক একটি ফুল ওজনে সাত-আট কিলোগ্রাম থেকে দশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। সুতরাং বুঝতেই পারছো কি বিরাটকায় সেই ফুল।’
‘আর ওলফিয়া গ্লোবোজা হলো পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ফুল। ফুলটি হালকা সবুজ অথবা হলুদ রঙের জলজ ফুল। স্বাদু পানির শান্ত জলাশয় যেমন পুকুর ও হ্রদে এ ফুল ফুটে থাকে। এ ফুল খালী চোখে দেখা কষ্টকর। কেউ যদি একটি আলপিনের মাথা ওলফিয়া ফুল দিয়ে ঢেকে দিতে চায় তবে এক ডজন ফুলের প্রয়োজন হবে। এর দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১ মিলিমিটার। এতে সহজেই অনুমান করা যায় একটি ওলফিয়া গ্লোবোজা কত ছোট। তবে এই ফুলটি খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। পৃথিবীর সর্বত্র ফুলটি দেখতে পাওয়া যায়।’
সবশেষে ফুল মামা বললেন, ‘ফুলের কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না। পবিত্রতার প্রতীক ফুল রূপে-বৈচিত্র্যে-ভালবাসায় অনন্য। ফুল এবং শিশু ভালবাসে না এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। শিশুদের তুলনা করা হয় ফুলের সঙ্গে। ফুল যেমন তার রূপ, সৌরভ দিয়ে মানুষের মনকে পুলকিত ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে উন্নত করে। তেমনি শিশুরা মেধা-মননে যোগ্য হয়ে বেড়ে উঠার মধ্য দিয়ে দেশ তথা সমাজকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করে।’
সবাই ফুল মামার জন্য হাত তালি দিল। সঙ্গে সঙ্গে ফুল মামাও সবাইকে জড়িয়ে নিলেন বুকে।