মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

ফার্মেসী থেকে সরানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

9

দেশ ভেজালে সয়লাব হয়ে গেছে। এক শ্রেণির নীতি নৈতিকতাহীন ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। যে কারণে বিচিত্র রোগ দেখা দিচ্ছে মানুষের। গড় আয়ু বাড়লেও দেশে এখনো সুস্থ ও নিরাপদ স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়নি। নানা রোগ শোক লালন করে বেঁচে থাকা সুখকর নয়। রোগহীন সুস্থ স্বাস্থ্যই আমাদের কাম্য। খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। যার কারণে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে উচ্চতর আদালতকে নির্দেশনা দিতে হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিএসটিআই এবং দুদকের লোকবল বৃদ্ধিসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে না। দেশের প্রতিটি বিষয়ে উচ্চতর আদালতের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন হবে কেন তা আমাদের বুঝে আসে না। আমরা দেশের নিয়মনীতি, আইনকানুন কিছু না মেনে নিজস্ব লোভ ও লাভের বশবর্তি-হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে এমনই মশগুল হয়ে পড়েছি যে, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসমূহ তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়ে উঠছে না।
খাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকাজনদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের যে অবক্ষয় দেখা যায় তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। দেশের প্রত্যেক সেক্টরে নৈতিক ও মানবীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে ভেজাল বিরোধী অভিযান এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ কোন অবস্থাতে সম্ভব হবে না। ভোগ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মান যাচাইয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবসার সিন্ডিকেটের সঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারী ও জড়িত বলে পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে যা বিস্তারিতভাবে ওঠে এসেছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধে সারাদেশে ফার্মেসীগুলোকে মুক্ত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবন করে দেশের বহু নরনারীর কিডনি, লিভার এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পত্রপত্রিকার খবরে সংশ্লিষ্টরা কান দিচ্ছে না। তাই এ বিষয়েও উচ্চতর আদালতকে নির্দেশনা দিতে হলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন ২ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ফার্মেসী গুলো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরাতে। শুধু সরিয়ে রাখলে হবে না। ওষুধগুলোর ধ্বংস সাধন নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। ধ্বংস না করে ফার্মেসী থেকে ওষুধ সরানোতে জনগণের সমূহ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয়। কেন না ধ্বংস না করা হলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আবার ফার্মেসীতে উঠে আসবে। দেশের সব বিষয়ে উচ্চতর আদালতকে নির্দেশনা দিতে হবে কেন। এ বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হবে। আমরা মনে করি সবসেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলরা তাদের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করলেই দেশে খাদ্যে ভেজাল ওষুধের ভেজাল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব। আর এ অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের প্রকাশ্য বিচার হওয়া জরুরি।