তিন সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ফটিকছড়িতে বাঁধ ভেঙে পানির নিচে অর্ধশত গ্রাম

শহীদুল আলম, ফটিকছড়ি

9

ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর পুুরোনো বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে পানি ঢুকে এবং নতুন করে কয়েকটি স্থান ভেঙে গিয়ে দৌলতপুর, সুন্দরপুর, পাইন্দং, নারায়ণহাট, সুয়াবিল, কাঞ্চননগর, রোসাংগিরী, সমিতিরহাট ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের নি¤œা ঞ্চলের অর্ধশত গ্রাম তলিয়ে গেছে। ফলে এসব গ্রামের প্রায় দুই লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
এছাড়া গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের শান্তিরহাট বটতল এলাকায় সেতু ভেঙে গত বুধবার থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে নাজিরহাট-কাজীরহাট সড়ক ও নানুপুর-বিবিরহাট সড়কের উপর দিয়ে কোমর সমান পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার লোকজন নৌকায় যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত শুক্রবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
এতে উপজেলার রোসাংগিরী, সুয়াবিল, সমিতিরহাট, ভূজপুর, লেলাং, কাঞ্চননগর, নারায়ণহাট ও দাঁতমারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সবক’টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সুয়াবিলের পূর্ব-সুয়াবিল ও ভাঙাদিঘীর পাড়, রোসাংগিরী ইউনিয়নের পূর্ব আজিমনগর ও লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামে পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি হাঁটুপানিতে ডুবে রয়েছে। এসব গ্রামের পরিবারগুলো পাশের বাড়িতে কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।
দৌলতপুর গ্রামের আলী আজম ছাদেক বলেন, ‘আমার পৈত্রিক সম্পত্তির তিনটি পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের মাছ চলে গেছে। এলাকার আরো কয়েকটি মৎস চাষ করা পুকুর বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’।
রোসাংগিরী গ্রামের শম্ভু কুমার শীল জানান, আমার তিন কানি খেতের আমন বীজতলা তলিয়ে গেছে। তিনি সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন।
রোসাংগিরী ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শোয়েব আল ছালেহীন বলেন, ইউনিয়নের অনেক এলাকায় বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছে। বৃহস্পতিবার (গতকাল) সকালে নতুন করে আরবানিয়া এলাকায় ভাঙনে ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ গ্রাম এখন পানিতে নিমজ্জিত। ইতোপূর্বে পাউবো কোনো অংশেই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করায় এসব দিয়ে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
সমিতিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাররুন অর রশীদ বলেন, ‘ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবন পার করছেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে আরবানিয়া এলাকায় হালদার ভাঙনের কবলে পড়ে সাতটি বসতঘর সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে’।
কাঞ্চনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী চমুরহাট বাজারটি ধুরং এর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এটি যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামের অংশবিশেষ তলিয়ে গেছে। দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য স্ব স্ব দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্গতদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।