আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাবি

ফটিকছড়িতে জুতা মিছিল, বিক্ষোভ আহত ৬

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

25

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার দাবিতে জুতা মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় ৬ জন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা সদরের এশিয়া প্লাজা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও কলেজ শাখার তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে তারা অবস্থান নিলে যানজট সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এসময় মহাজোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে এবং ফটিকছড়ি থেকে এ টি এম পেয়ারুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানান। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদরের বাস স্টেশন চত্ত¡রে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দলীয় প্রার্থী চাই। দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারী বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি শেষ পর্যায়ে পরিবর্তন হবে। অন্যথায় দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রীকে এ আসনটি উপহার দেব।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হক বলেন, ‘হায়েনাদের কবল থেকে দলীয় প্রতীক মুক্ত করে প্রকৃত আওয়ামী লীগের কর্মীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই। জোটের প্রার্থীর দরকার নাই।’
এদিকে বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার বিবিরহাট বাজার প্রদক্ষিণ করার সময় থানার সামনে পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করলে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মাহমুদুল হক (৪৫), মুজিবুর রহমান (৪৫), জসিম উদ্দিন মুহুরী (৪৮), মো. মাসুদ (৪০), বেগম রাজিয়া মাসুদ (৬০) আহত হন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এসময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবদুল জলিল (৩৮) কপালে আঘাত পান। তার কপালে তিনটি সেলাই করা হয়। তাকে উপজেলা সদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল আকতার মিছিলে লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিক্ষোভকারীরাই পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ সতর্ক থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘সেখানে একজন নির্বাহী হাকিম দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, কোন মিছিল হয়নি। সুতরাং নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হয়নি।’