বিবৃতিতে বাবুনগরী

প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ

হাটহাজারী প্রতিনিধি

23

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার ‘অদ্ভুত’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী মহাপরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল রবিবার বিকালে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, স¤প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভুল তথ্য এবং বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ করে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ করেছেন প্রিয়া সাহা। তার বক্তব্য মুসলমান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে নিজ দেশ সম্পর্কে সে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। আমি তার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে বাবুনগরী আরও বলেন, ‘প্রিয়া সাহা দেশের মুসলিম সমাজ ও সরকারের নামে নালিশ করে মূলত রাষ্ট্রদোহিতামূলক অপরাধ করেছে। সে একজন রাষ্ট্রদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে বাংলাদেশে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। এ দেশে বর্তমানে সংখ্যালঘুরা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা এমনকি দেশের মূল চালিকাশক্তি অর্থ ব্যবস্থাতেও তুলনামূলক তাদের উপস্থিতি বেশি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, সোনালি ব্যাংকের এমডি ও সিইও, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক, রূপালি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং জনতা ব্যাংকের পরিচালক তারা সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের। জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিন্দু, বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়্যারম্যান হিন্দু, এমনিভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবও হিন্দু, ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক এবং ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিন্দু স¤প্রদায়ের। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজনের উপস্থিতি রয়েছে। ক’দিন আগেও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি যিনি ছিলেন তিনিও ছিলেন হিন্দু।’
আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠি ৮.৫ শতাংশ এবং মুসলমানদের অনুপাত ৯০.৪ শতাংশ। সে হিসেবে বাংলাদেশে মোট হিন্দু জনগোষ্ঠির সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ। অন্যদিকে মুসলমান জনগোষ্ঠির সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্তে¡ও সংখ্যালঘুরা কতটা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় তা সুস্পষ্ট।
এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত অকরা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মুসলমানরা কখনো হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেনি। বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে প্রিয়া সাহা। বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলে লক্ষ-কোটি তৌহিদী জনতার কলিজায় আঘাত করেছে এই রাষ্ট্রদ্রোহী মহিলা। এর জন্য তাকে নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।