প্রস্তাবের নয় মাস পর আসছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

14

প্রস্তাবের নয় মাসের মাথায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে। গত ফেব্রূয়ারি মাসে জমা দেয়া প্রস্তাবিত কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হতে পারেন বাদ পড়াদের কয়েকজন। এর আগে করোনায় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ভাটা, রাজনীতি না করেও অযোগ্যদের নাম প্রস্তাবনা, একের অধিক কমিটিতে থাকা, যোগ্য নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান না দেয়া এবং দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আট নেতার সাক্ষাত করাসহ নানা কারণে এ কমিটি গঠন থমকে যায়। গত ২৫ নভেম্বর উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ডাকে সাড়া দিলে কমিটি গঠনে গতি আসে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হবে নতুন ‘চমক’ কমিটি। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে। প্রস্তাবিত কমিটিতে উত্তর জেলার তিন সিনিয়র নেতার প্রস্তাবনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে কয়েকজন নেতা বাদ পড়লেও যোগ্যতা বিবেচনায় কেন্দ্র তাদেরকে নতুন কমিটিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা এখনো চ‚ড়ান্ত বৈঠক করি নাই। আমরা আরো ৯ মাস আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাবনা দিয়েছি। দেশের সবগুলো কমিটি একসাথে জমা পড়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে কমিটি এখন হাত দিয়েছে। আমাদের সাথে কথাবার্তা বলেছে। আমরা গিয়ে কমিটির স্বপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেছি। নতুন করে কেউ ঢুকবে কিনা ঘোষণার আগে জানা যাচ্ছে না। কেন্দ্র হয়তো চাইবে নতুন কাউকে ঢুকাতে। কেন্দ্রের কাছে তো সকল তথ্য থাকবে না। আমরা কেন কাকে বাদ দিয়েছি এর তথ্য আমাদের আছে।’
দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালামকে সভাপতি ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ আতাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন কাউন্সিররা। এ দুজন মিলে সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি কমিটির প্রস্তাবনা পেশ করেন কেন্দ্রে। এ কমিটি প্রস্তাবনার পর থেকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগে গ্রূপিং চাঙ্গা হয়। গত ১১ ফেব্রূয়ারি মিরসরাইয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, ফটিকছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আবু তৈয়ব, রাউজানের উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস গনি চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে প্রস্তাবিত কমিটি সম্পর্কে আপত্তি জানান। এরপরেই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া আটকে গেলে নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়। রাজনীতির মাঠে আলোচনায় আসে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির পদে কারা আসছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রের অনুমোদন পেতে পাঠানো প্রস্তাবিত কমিটিতে ১১ জনকে সহ-সভাপতি, তিনজন যুগ্ম সম্পাদক ও তিনজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে। এরা হলেন, সহ-সভাপতির মধ্যে হাটহাজারীর অধ্যাপক মো. মাঈনুদ্দিন, রাউজানের আবুল কালাম আজাদ, এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, রাঙ্গুনিয়ার আবুল কাশেম চিশতী, স্বজন কুমার তালুকদার, ফটিকছড়ির ইঞ্জনিয়ার হারুন, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সীতাকুন্ডের এড. মো. ফখরুদ্দিন, সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, মিরসরাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদ ও জসীম উদ্দিন। যুগ্ম সম্পাদক পদে মিরসরাইয়ের নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, রাউজানের দেবাশিষ পালিত, হাটহাজারী জসীম উদ্দিন শাহ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তিনজন সংসদ সদস্য ফটিকছড়ির খদিজাতুল আনোয়ার সনি, সীতাকুন্ডের মহিউদ্দিন বাবলু, রাঙ্গুনিয়ার নজরুল ইসলাম তালুকদার। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে এই তিন পদে বাদ পড়ায় ২-৪ জন নেতা যুক্ত হতে পারেন। এরমধ্যে হাটহাজারীর ইউনুস গনি চৌধুরী, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, ফটিকছড়ির এসএম আবু তৈয়ব, মিরসরাইয়ের গিয়াস উদ্দিন, নুরুল হুদাসহ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সাবেক এক নেতা বলেন, কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সালামের ইচ্ছাকেই প্রস্তাবিত কমিটিতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যে কারণে কমিটি প্রস্তাবের আগে এ তিন নেতাকে ঘিরেই পদ প্রত্যাশীদের আগ্রহ ছিল বেশি। যতটুকু জেনেছি সাবেক ছাত্রনেতাদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কমিটিতে। গ্রূপিংয়ের কারণে কয়েকজন বাদ পড়লেও তাদেরকে হয়তো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকালে মূল্যায়ন করতে পারে কেন্দ্র। এটা সত্যি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তর জেলায় কিছুটা গ্রূপিং-দলাদলি বেড়েছে।