প্রভাতরঞ্জন সরকার (১৯২১-১৯৯০)

8

ধর্মগুরু, সঙ্গীত রচয়িতা ও আনন্দমার্গ মতবাদের প্রবর্তক। ১৯২১ সালের ২১ মে পিতার কর্মস্থল ভারতের বিহার রাজ্যের জামালপুরে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে। তিনি জামালপুর রেলওয়ে স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৩৬) এবং কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে আইএসসি (১৯৪১) পাস করেন। এ সময় পিতার মৃত্যু হলে আর্থিক কারণে তিনি জামালপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপে চাকরি গ্রহণ করেন। এখানে কর্মরত অবস্থায়ই তাঁর মধ্যে সাত্ত্বিক ভাবের উদয় হয় এবং মানবকল্যাণ ও আর্তমানবতার সেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৫৫ সালে তিনি ‘আনন্দমার্গ প্রচারক সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৯ সালে উপযোগতত্ত্বের (PROUT) ভিত্তিতে তিনি ‘প্রাউট সংগঠন’ গড়ে তোলেন এবং ১৯৬৬ সালে চাকরি ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগঠনের কাজে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন।
প্রভাতরঞ্জন মহারাজাধিরাজ যোগসাধনারও প্রবর্তক ছিলেন। আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক স্তরের সর্বাধিক উপযোগ, জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজনপূর্তি, সকলের জন্য সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত এবং সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হলো তাঁর প্রবর্তিত উপযোগতত্ত্বের মূল বক্তব্য। সাধারণভাবে তাঁর এ মতবাদ আনন্দমার্গ নামে পরিচিত। নব্যমানবতাবাদী দর্শনের প্রতীক এই আনন্দমার্গ তাঁর জীবদ্দশাতেই পৃথিবীর প্রায় ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ঢাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে আনন্দমার্গের শাখা এবং এর অনেক অনুসারী রয়েছে। প্রভাতরঞ্জনের মতে সর্বপ্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধন থেকে মুক্তিলাভই হলো প্রকৃত শিক্ষা। ‘সর্বজনহিতায় সর্বজনসুখায় চু’ এই আদর্শ সামনে রেখে তিনি সা¤প্রদায়িকতা ও জাতিভেদপ্রথার বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন।
সঙ্গীতজগতে তাঁর বিশেষ অবদান হলো ৮টি ভাষায় রচিত ও সুরারোপিত ৫০১৮টি ‘প্রভাতসঙ্গীত’। বাংলা ভাষাতত্ত¡ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল এবং এ বিষয়ে তিনি দুই খন্ডে সমাপ্ত একখানা গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৯০ সালের ২১ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। সূত্র: বাংলাপিডিয়া