প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

15

করোনাভাইরাস আতঙ্ক চতুর্মুখী সংকটে ফেলেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া- সর্বত্রই গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি। একদিকে প্রাণঘাতী রোগের ভয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে হচ্ছে শঙ্কায়, অন্যদিকে আয়-রোজগার বন্ধের পথে। দিন বা সপ্তাহভিত্তিক চাকরি করা প্রবাসীরা পড়েছে সংকটে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে স্বল্পসময়ের জন্য দেশে ফিরে বড় সংকটে পড়ছেন প্রায় তিন লাখ প্রবাসী। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যে সকল প্রবাসী ছুটি নিয়ে দেশে আসেন তারা যথাসময়ে ফিরতে না পারায় অনেকের চাকুরি গেছে, মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেকের ভিসা ও ফিরতি টিকেটের। এ অবস্থায় অর্থসংকটসহ নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। ????? অনেকের ছুটি শেষ হয়ে ???? কোয়ারেন্টাইনেই। ছুটির দিনক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পর কর্মস্থলে ফিরে কাজে যোগ দেওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। আসলেই সেসব দেশে ফের ঢুকতে পারবেন কিনা, এ নিয়েই ভীত শ্রমিকরা। সব মিলিয়ে প্রবাসীদের এ সংকট প্রভাব ফেলতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহে। ? ??????? সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন দেশে ফেরত প্রবাসীরা। বুধবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসজীবনে থাকা শ্রমিক বা ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের। বর্তমানে শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ২লাখের অধিক প্রবাসী দেশে আছেন। তাদের অনেকের ভিসা, টিকেট ও পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে। আদৌ তারা আর ফেরত দেশটিতে যেতে পারবেন কিনা। যদি তা না হয় তবে, বাংলাদেশ বহুমূখী সমস্যায় পড়বে। একদিকে বৈদিশিক রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাবে, অপরদিকে দেশে ব্যাপকহারে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। এরসাথে সামাজিক অপরাধের মাত্রাও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন অনেকে। এ অবস্থায় প্রবাসীদের রেমিচেন্স প্রবাহের গতি ফেরানোসহ প্রবাসীদের জীবন-জীবীকা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তায়। অভিবাসন খাতের গবেষকরা বলছেন সংকট মোকাবিলায় আসছে বাজেটে প্রবাসী-কল্যাণে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠকরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যোগ্য প্রতিনিধি নিয়োগ, গবেষণা জোরদারসহ বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিতে হবে সরকারকে। সম্প্রতি প্রবাসীদের নিয়ে গবেষণা করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, দেড় শতাধিক দেশের শ্রমবাজারে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শ্রমিক। যাদের অবদান জিডিপিতে ১২ শতাংশ। এই অবদান মজবুত করেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে। করোনা মহামারীতেও প্রবাসী শ্রমিকের অবদানে রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলার । কিন্তু যত দিন পার হচ্ছে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেই সিংহভাগ প্রবাসী কাজ করে, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম কমা, পর্যটনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই পড়েছে করোনার থাবা। অন্যান্য দেশেও লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিনের কর্মবিরতি চলছে। এরই মধ্যে কাজ হারিয়ে এক লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ফিরেছে বলেও জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেইসাথে ছুটিতে আসা কয়েক লাখ শ্রমিক ফিরতে পারেননি কাজে। স¤প্রতি স্থানীয় কয়েকটি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে করোনার প্রভাবে বেকার হয়েছেন ১৪ লাখ প্রবাসী শ্রমিক। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা আছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানে বরাদ্দ বাড়ানোর যে প্রস্তাব এসেছে তা অপ্রতুলই বলা যায়, এরপরও তারা মনে করেন, প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের অনুকূলে আমাদের মিশনগুলোতে সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে। বলঅর অপেক্ষা রাখেনা যে, গতবছর প্রথমবারের মত প্রবাসীদের রেমিটেন্সে নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। বরাদ্দ রাখা হয় ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। যা বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে মনে রাখতে হবে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী এ বছর আমাদের রেমিটেন্স কমে যাবে প্রায় ২২ শতাংশ। অথচ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রনালয় চলতি অর্থবছর ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স প্রত্যাশা করেছিলো, এখন পর্যন্ত ১১ মাসে এসেছে, ১৬৩৫ কোটি ডলার। সুতারং আমরা মনে করি, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সরকারের। সরকার দেশের আয়ের খাত সমুহ যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে নানা প্রণোদনা দিচ্ছে, একইভাবে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে প্রণোদনাসহ তাদের সমস্যা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।