প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন সফলতা, সুস্থতায় দীর্ঘায়ু কামনা

16

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ ৭৪তম জন্মদিন। এ শুভদিনের শেষ সূর্যাস্তের সাথে পা দিবেন পৌনে এক শতকে অর্থাৎ ৭৫ বছরে। দেশরতœ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ৭৪তম শুভ জন্মদিনে দৈনিক পূর্বদেশের পক্ষ থেকে জানাই একরাশ শুভেচ্ছা। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে বঙ্গকন্যার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর যে পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও ভিশন, তা পূর্ণতা পাবে-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের। আজ থেকে ৭৪ বছর আগে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার নিভৃত পল্লী টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনার শৈশব কৈশোর কেটেছে দাদা-দাদির কোলে-পিঠে, বাইগার নদীর তীরে। বাবার দেখা পেতেন কদাচিৎ। পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রায়ই কারাগারে থাকতে হতো, রাজরোষ ছিল তার নিত্য সহচর। রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগঠন নিয়েই শেখ মুজিবুর রহমানের দিন-রাত্রি, যাপিত জীবন। এ কারণে পুত্র-কন্যারা পিতার সান্নিধ্য পেয়েছে খুবই কম। পাঁচ ভাই-বোন। কনিষ্ঠদের মধ্যে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেল। কিন্তু কারাগার আর রাজপথের আন্দোলেনের এ লোকোচুরি খেলায় বাবার ¯েœহ-মমতা যেটুকু পেয়েছে তাতেই শেখ হাসিনা নিজেকে গঠন করতে সক্ষম হয়েছে পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সুযোগ্য কন্যা হিসাবে। শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু, মা ফজিলাতুন্নেছাসহ ছোট্ট ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়দের অনেককেই হরিয়েছেন, লেখাপড়ার সুযোগে বোন রেহানাকে নিয়েছিলেন দেশের বাইরে। ভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনই বেঁেচ গেলেন। তাঁরা স্বদেশে থাকলে ঘাতকচক্র তাকেও নিশ্চিত হত্যা করত। কিন্তু মহান আল্লাহ চাইলে মানুষকে অলৌকিকভাবে বাঁচিয়ে রাখেন। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়ায় রক্ষা পেল রক্তার্জিত স্বাধীনতা, স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব। একই সঙ্গে ‘মানবতার জননী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন- জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চাকা চলছে অদম্যধারায়। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল।
এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি গৃহবন্দি থেকেছেন। সামরিক স্বৈরশাসনামলেও বেশ কয়েকবার তাকে কারানির্যাতন ভোগ ও গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বারবার তার জীবনের ওপর ঝুঁকি এসেছে। অন্তত ১৯ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে তার লক্ষ্য অর্জনে থেকেছেন অবিচল।
সহজ সারল্যে ভরা তার ব্যক্তিগত জীবন। মেধা-মনন, কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। পোশাকে-আশাকে, জীবনযাত্রায় কোথাও বিলাসিতা বা কৃত্রিমতার কোনো ছাপ নেই। নিষ্ঠাবান ধার্মিক তিনি। নিয়মিত ফজরের নামাজ ও কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে তার দিনের সূচনা ঘটে। পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন কয়েকবার।
একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভ‚ষিত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ অসংখ্য পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে।
মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা তার এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় দিন বদলের মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সুনিপুণ কারিগর শেখ হাসিনা। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল।
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেওয়া উপমহাদেশের সর্বাধিক প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা, ভাষা, সাংস্কৃতিক সব জাতির অর্জন মানেই আওয়ামী লীগের, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অর্জন। আওয়ামী লীগ মানেই হচ্ছে জাতির সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার স্বর্ণালি দিনের প্রতীক। এই দলের নির্বাচনি প্রতীক নৌকাও জাতির সেই সম্ভাবনার বার্তা বহন করে চলেছে। হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত দুঃখী মানুষের কাছে এক চিলতে আশার আলোকবর্তিকাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনা। এ দলের প্রতিষ্ঠা থেকে দীর্ঘপথ পরিক্রমায় সেই স্বাক্ষর রেখেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে জনপ্রিয়তায় ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দলটি। একই সঙ্গে দেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও তার নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকচক্র মূলত স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ঘাতকচক্রের সেই লক্ষ্য সফলও হয়েছে। এর পরিণামে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা, দেশ পরিচালনা, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশ পরিচালিত হয় পাকিস্তানি ভাবধারায়। কিন্তু জাতির পিতার রক্তের উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছি। শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।