প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জয়ী হতে প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ

27

মহান স্বাধীনতা দিবসের ৪৯তম বছরে এসে বৈশ্বিক মহামারির কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। সরকার স্বাধীনতা দিবসের সকল আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষকে এ মহামারির কবল থেকে রক্ষা করা। আমরা জানি গত দুইমাস আগে চীনে সর্বপ্রথম এ মহামারির আগ্রাসন শুরু হয়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে পারস্য উপসাগরিয় দেশ ইরান হযে কুরিয়া, ইতালি স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৯৯টি দেশ করোনা ভাইারাস নামক কোভিড-১৯ এর আগ্রাসনে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ছে। দিন যত যাচ্ছে করোনার আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। এর সাথে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মানবতার আর্তনাদে আকাশ ভারি হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে এক গুরুৃত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করে আমরা যেভাবে বিজয়ী হয়েছি, করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে সেভাবেই জয়ী হতে হবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করাও একটি যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধে সবার দায়িত্ব ঘরে থাকা। তিনি আরও বলেন, কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল অথবা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা, যেখানে-সেখানে থুথুু-কফ না ফেলা, করমর্দন অথবা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এসব উপদেশ-পরামর্শ প্রত্যেক নাগরিকেরই মেনে চলা উচিত। পরামর্শগুলো ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রচারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা যুদ্ধেরই নামান্তর। এই যুদ্ধে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে এবং এজন্য সবচেয়ে যা জরুরি তা হল, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। এ প্রসঙ্গে ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভয়াবহ অবস্থার কথা উল্লেখ করা যায়। আমাদের পরিস্থিতি এখনও ততটা খারাপ হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে এবং সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে না পারলে আমাদের অবস্থাও শোচনীয় পর্যায়ে যেতে পারে বৈকি। এ ক্ষেত্রে জনগণের স্বত¯ফূর্ত সাড়া বা অংশগ্রহণের কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর একটি হল, নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলতে হবে, এ সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। করোনাভাইরাসের বর্তমান সংকটকালে নিম্ন আয়ের নাগরিকদের বেশিরভাগই হারিয়েছেন কাজ। এই দুঃসময়ে রাষ্ট্র তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, এটা এক বড় সুসংবাদ। প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তা হল, তিনি রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। বলাবাহুল্য, করোনাভাইরাসের কারণে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশেষত গার্মেন্ট শিল্প মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যেই গার্মেন্ট খাতের ২০০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এই শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। শিল্প মালিকদের সক্ষমতা যখন প্রশ্নের সম্মুখীন, তখনই প্রধানমন্ত্রী এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেন। আশা করা যায়, এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ করোনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য যে ঝুকির কথা বলা হচ্ছে,তা অনেকটা কেটে যাবে। তবে এসময় সরকারকে মৎস্য রফতানি খাত ও কৃষি খাতের দিকেও নজর দিতে হবে। একই সাথে করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে ঔষধ খাতে যে বিশৃঙ্খলা অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে তা কঠোর হাতে দমন করে করোনা ভাইরাসের আক্রমণরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও গ্লাপস, হ্যান্ড ওয়াশগুলো যেন পর্যাপ্ত এবং উপযুক্ত মূল্যে পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।