প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

দেশের প্রধানমন্ত্রী বিগত ১২ জানুয়ারি ২০২০ বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। তিনি রোববার স্থানীয় সময় ৮টা ৩০ মিনিটে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২ দিনের সরকারি এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমদের দেশের ৮০ শতাংশ লোক মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে কাজ করেন। বেশ কয়বছর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য সীমিত হয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্ত-সম্পর্কিত একটি চুক্তি বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় গতবছর ২০১৯ সালে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের ৩টি কোম্পানিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাতে লোক পাঠানোর দায়িত্ব ও প্রদান করেছিল। ২০১৯ সাল অতিবাহিত হয়ে ২০২০ সাল আসার পরও মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম কি এক অজানা কারণে এখনো আটকে আছে। আরব আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির পরও বিষয়টির অজ্ঞাত কারণে স্থবির হয়ে থাকা জাতির জন্য শুভ নয়। আমাদের দেশের সিংহভাগ জনশক্তি রপ্তানি হয় আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে। বিদেশি রেমিটেন্সের সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নানা গ্যাড়াকলে স্থবির থাকায় দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ছে। দেশ হারাচ্ছে মোটা অংকের রেমিটেন্স। প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরাতে সরকারি সফরের নির্দিষ্ট কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির আমির ও যুবরাজের সাথে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনশক্তি রপ্তানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটির কর্ণধারদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অবতীর্ণ হয়ে সফলতার সাথে বিষয়টির জটিলতা নিরসন করতে সক্ষম হবেন। দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে জটিলতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জোরালো ভূমিকা রাখবেন এমন আশা দেশের আগ্রহী বিদেশগামী মানুষের। মালায়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, দুবাই, আবুধাবি ইত্যাদি দেশেই আমাদের শ্রমবাজারকে বিশেষভাবে চাঙ্গা করে রেখেছিল। যার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। বর্তমানে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির সেক্টর সন্তোষজনক নয়। তাই বিদেশগামী দক্ষ-অদক্ষ শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি সফর তাই বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছে দেশের সাধারণ মানুষ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান-ধ্যানে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিই প্রধান গুরুত্বের বিষয়। আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালে দেশটিকে মধ্য-আয়ের দেশে রূপান্তরে অঙ্গিকারবদ্ধ। তিনি যা বলেন তা তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। দেশে প্রবৃদ্ধির হার-বৃদ্ধি, শিল্পোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা মনে করি দেশের প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি সফর থেকে খালি হাতে ফিরবেন না। তাঁর এ সফর আরব আমিরাতের শ্রমবাজার কার্যকরভাবে উন্মুক্ত হবে এমন আশায় বুক বেঁধে আছে সমগ্র দেশের মানুষ।