প্রথম স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ডের আওতায় চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

17

আর্মস লাইসেন্স স্মার্ট কার্ডের আওতায় এসেছে চট্টগ্রাম। দেশে এই প্রথম এ পদ্ধতি চালু হল। গতকাল বুধবার এ পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। একই সাথে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ওয়েব পোর্টাল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মাশহুদুল কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মাঝে ৭টি স্মার্ট আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও ১৭টি ডিলিং লাইসেন্স (ব্যবসায়ী) বিতরণ করেন বিভাগীয় কমিশনার। স্মার্ট আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের পাশাপাশি জুয়েলারি, স্ট্যাম্প ভেন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ইটভাটা, শিশু খাদ্য, এসিড ও এসিডজাত দ্রব্য বিক্রি প্রতিষ্ঠানের স্মার্ট ডিলিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য সংযুক্ত ১৪ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কন্টাকলেস স্মার্ট লাইসেন্স প্রদানের যাত্রা চট্টগ্রাম থেকে শুরু হলো ।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্মার্ট লাইলেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর আওতায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল ধরনের ডিলিং লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি মাইলফলক। কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক সিকিউরিটিসহ অন্যান্য বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত স্মার্টকার্ড নাগরিক সেবায় স্বাচ্ছন্দ্য আনবে। আধুনিক স্মার্ট সলিউশন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল প্রকার লাইসেন্সের তথ্য এক ঠিকানাতেই পাওয়া যাবে। এই সিস্টেমের আওতায় যে কোনো স্থান থেকে লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা যাবে। ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার বন্ধ হবে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অপরাধ দমন, রাষ্ট্রীয় জননিরাপত্তা বিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে স্মার্ট লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল ধরনের ডিলিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াটি স্পেকট্রাম আইটি সলিউশনস্ লিমিটেডের কারিগরি সহযোগিতায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) মডেলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে প্রত্যেক গ্রাহকের একটি করে অনলাইন পোর্টাল থাকবে। সেবা প্রার্থীগণ ঘরে বসেই তাদের নিজ নিজ পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্সের আবেদন, ফি জমা দান, তথ্য ও ডকুমেন্ট শেয়ারিং করতে পারবে। নকল প্রতিরোধে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সটিতে ১৪ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত করা হয়েছে। লাইসেন্সের বিভিন্ন তথ্য তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের জন্য একটি মোবাইল এ্যাপস্ ও একটি বিশেষায়িত ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। যার মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহীতার এনআইডি নম্বর, লাইসেন্স নম্বর, আঙ্গুলের ছাপসহ ৭ ধরনের তথ্য ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই করা যায়। কখনও কোনো লাইসেন্সধারীর স্মার্ট কার্ডের বিষয়ে সন্দেহ হলে শুধুমাত্র তার ফিংগারপ্রিন্ট অথেনটিকেশনের মাধ্যমেই লাইসেন্সের সঠিকতা যাচাই করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, এ সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রদত্ত আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল লাইসেন্সের তথ্য এক ঠিকানাতেই পাওয়া যাবে। স্মার্ট ফোনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো স্থানে লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা যাবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল প্রকার ডিলিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন, অনলাইনে ফি জমা দেয়া এবং সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যযুক্ত স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স প্রদান করার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে স্মার্ট লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
পরে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ওয়েব পোর্টাল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ ইমতিয়াজ।
অনুষ্ঠানে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স গ্রহীতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ও পিএইচপি গ্রæপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্মার্ট আগ্নেয়াস্ত্র ও ডিলিং লাইসেন্স তুলে দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। স্মার্ট আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, পিএইচপি গ্রæপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান, চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডা. রবিন আহমদ ইস্পাহানি, দৈনিক আজাদী সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু ও মো. রাশেদুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মেহেদী হাসান, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল এ) মো. মমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিরুল কায়ছার, জেলা পিপি একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ ।