সিইসি’র মন্তব্য

প্রতিদ্বন্দ্বিতা তা হলে ভোটে অনিয়মও প্রতিরোধ হবে

পূর্বদেশ ডেস্ক

6

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা গেলে অনিয়মও প্রতিরোধ হবে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তবে বাংলাদেশের ‘বাস্তবতায়’ বড় নির্বাচনে (পাবলিক) অনিয়ম ‘একেবারেই হবে না’- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিফোনে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র, প্রায় ৩ লাখ ভোটকক্ষ- এত বড় নির্বাচনে কোথাও অনিয়ম হবে না- এমন কথা বললেও মিথ্যা কথা বলা হবে। আমি বাস্তবতার কথা বলছি; অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা আমি তো দিতে পারি না’।
আসছে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির সামনে। সব দলকে সেই নির্বাচনে আশা করলেও তফসিল ঘোষণার আগে আর কোনো সংলাপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিইসি। ‘ভোটের আগে আর সংলাপ করব না। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক নির্বাচন হলে অনিয়ম করার সুযোগও পায় না কেউ’, বলেন সিইসি।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুমিল্লা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট করে প্রশংসিত হয় নূরুল হুদার কমিশন। তবে এরপর খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বর্তমান ইসিকে। এ অবস্থায় বুধবার ভোটের অনিয়ম নিয়ে সিইসির একটি বক্তব্য আলোচনার জন্ম দেয়। সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বড় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। কোনো নির্বাচনে যদি অনিয়ম হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।
সিইসির এমন মন্তব্যের পর তাকে ‘সংযত’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়ত মনে করেছেন- এটাই সত্যি। কিন্তু তার বক্তব্যে আরও সংযত হওয়া দরকার, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূল দায়িত্বে তিনি আছেন। কথাবার্তা অবশ্য তিনি ভালোই বলেন, তবে ¯িøপ হতেই পারে। আমি আশা করি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেবেন না’।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, ‘আমি তো বাস্তব কথাটা বলেছি। সত্য কথা বলেছি। যদি কোথাও অনিয়ম হবে না বলি-মিথ্যা বলা হবে; আমি তো মিথ্যা কথা বলি না। এখন এ নিয়ে কেউ কিছু বললে বলতে পারে’। সিইসির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা বা মন্তব্য করা সবারই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ বলে মনে করেন কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তার ওই বক্তব্যের কারণে জনমনে শঙ্কা তৈরি হওয়ারও কোনো কারণ নেই। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইন শৃঙ্খলাবাহিনী থাকবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আমাদের যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব আমরা’।
নির্বাচনকালীন সরকারের সময় শুরুর পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিশন ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘অক্টোবর থেকে তো সময় শুরু হবে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল দেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, বিশ্ব ইজতেমাসহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেব’। দলভিত্তিক সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, প্রতিদ্ব›দ্বীরা মাঠে থাকলে ‘যে কোনো অনিয়ম’ প্রতিরোধ হবে। আশা করি সংসদ নির্বাচন প্রতিযোগতামূলক হবে। কেউ যদি মাঠেই না থাকে তাহলে তো যারা মাঠে থাকে তাদের অবস্থান বেশি দেখা যায়। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা যত বেশি শক্তভাবে মাঠে থাকবে, উপস্থিতি থাকবে; অনিয়ম প্রতিরোধ করবে তারাই’।
নূরুল হুদা বলেন, সিটি নির্বাচনে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে সেখানে অনিয়মও ছিল না। যেখানে প্রতিদ্ব›দ্বীরা মাঠে নেই- সেখানে ‘সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা’ হয়েছে।