প্রকৃতই শিক্ষক চাই

জহির সিদ্দিকী

84

কর্মের মাধ্যমে মানুষ অমরত্ব
লাভ করে। কর্মকে ধর্ম
হিসেবে মনে লালন-পালন
করতে পারলেই সফলতা দ্বারে এসে
উঁকি দিবেই। আর সে কর্ম অবশ্যই
সৃজনশীল, শোভিত, নীতিসিদ্ধ হতে
হবে। প্রত্যেক মানুষ পৃথিবীর প্র ম
প্রহরে অভিজ্ঞতা নিয়ে পদার্পণ করে
না। চারদিক দেখে, বুঝে, উপলব্ধি
ও অনুশীলনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা
লাভ করে। সে অভিজ্ঞতা এবং সুপ্ত
প্রতিভার সমন্বয়ে নতুনত্বের দিকে
ধাবিত হয়ে উনড়বয়নশীল,
উৎপাদনশীল, সৃজনশীল মানুষ
হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আর
এভাবেই মানুষ তার কর্মের জন্য
মানব হৃদয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকে।
সৃজন মানেই সৃষ্টি করা।
যারা সৃজন বা সৃষ্টি করেন তারাই
¯্রষ্টা, প্রবর্তক, আবিষ্কারক, জনক।
আর যারা অবিরত সৃষ্টির নেশায়
নিজেকে মাতিয়ে রাখেন তারাই
সৃষ্টিশীল। পেশা, জাত, বর্ণ,
সম্প্রদায় ব্যতিরেখে সকলেই
সৃষ্টিশীল হতে পারেন। তার জন্যে
চাই সদিচ্ছা, আত্মবিশ্বাস,
অধ্যাবসায় এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।
সৃষ্টিশীল মানুষরাই পারে সুন্দর ও
উনড়বয়নশীল একটি পরিবার, সমাজ,
রাষ্ট্র উপহার দিতে। তারা একটি
প্রদীপ থেকে হাজারো প্রদীপ শিখা
প্রজ্জ্বলন করতে সক্ষম। তাদের
অনুসরণ-অনুকরণে প্রজন্মরাও স্বপড়ব
দেখে এবং বাস্তবতার দিকে এগিয়ে
যায়। সৃজনশীল মনোভাব সবসময়
ভাল কিছু উপহার দেয়। যার মধ্যে
দেশ ও জাতির কল্যাণ নিহিত
থাকে। প্রত্যেকেরই প্রতিভা রয়েছে।
এই প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে
স্থিরতার আবেশে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে
ঘিরে পরিকল্পনা প্রণয়ন করত ধাপে
ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। তবে
একথা স্বীকৃত যে সফলতার দ্বার
উন্মোচনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
সর্বপ্র ম নিজেকে শিক্ষার আলোয়
আলোকিত করতে হবে। সে আলো
নিয়ে মেধার প্রদীপকে সাজিয়ে
কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করার প্রাণপণ
চেষ্টা অব্যাহত রাখা চাই। লক্ষ্য
পাণে আরোহণ করতে যেমন
পরিকল্পনা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি
বাস্তবায়নে চাই- ধৈর্য্য, সাহস,
আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়। যাদের
মধ্যে এসব গুণাগুণ রয়েছে তারাই
সৃষ্টিশীল হতে পারে। কেননা তারা
নতুনত্ব উপহার দেয়ার লক্ষ্যকে ঘিরে
মনোনিবেশ করে এবং একের পর
এক সৃষ্টির মানসিকতায় এগিয়ে
যাবার স্বপড়ব দেখে। সৃজনশীল
মনোভাব থাকলেই সৃষ্টিশীল হওয়া
সম্ভব। এক কথায় আবিষ্কারের
নেশায় বিভোর হওয়া চাই।
আমি মনে করি সৃষ্টিশীল মানুষ কোন
নির্দিষ্ট পেশা, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের
নয়। যেকোন পেশার, বর্ণের
সম্প্রদায়ের এবং যেকোন বয়সের
মানুষ সৃষ্টিশীল হতে সক্ষম। পেশায়
শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,
আইনজীবী ইত্যাদি হওয়ার পরও
সৃষ্টিশীল মানুষ হওয়া যায়। শুধুমাত্র
পুরানোকে আঁকড়িয়ে ধরলে সৃষ্টিশীল
হওয়া যায় না। স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে
থেকেও নব উদ্যমে সৃজনী শক্তিকে
বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে দেশ ও জাতির
জন্য সুন্দর কর্ম উপহার দিতে
পারেন। আপাদমস্তক সৃষ্টিশীল
মানুষের মধ্যে রয়েছে জীবনের
স্বার্থকতা।
সুস্থ ধারার কবিতা, গল্প ও উপন্যাস
সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে
আলোকিত ও সৃষ্টিশীল মানুষ
বিনির্মাণে সহায়ক শক্তি হতে পারে।
যারা দিতে পারেন একটি সমৃদ্ধ
সমাজ। আজকে যে বাচ্চাটার জন্ম
হলো, সে হয়তো জানে না, আগামী
চার থেকে পাঁচ বছরের মাথায় তার
কাধে উঠে যাবে একটি ভারী ব্যাগ।
তাকেও দৌড়াতে হবে জীবন শক্তি
নামক প্রতিযোগিতার মঞ্চে। নিজের
ইচ্ছাশক্তি আর আগ্রহকে বিসর্জন
দিয়ে ছুটতে হবে কোচিং থেকে
কোচিং এ। দিন শেষে কোনো
কোনো শিক্ষার্থী হয়তো নিজেদের
আবিষ্কার করবে “যন্ত্রমানব” রূপে।
কেন এই প্রতিযোগিতা? শুধু-কি
টিকে থাকতে? আমাদের যুব সমাজ-
ভেতর থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে
ইচ্ছাশক্তি। কমে যাচ্ছে ভেতরে
থাকা এক অদম্য শক্তি। মনে
সদিচ্ছা, সμিয়তা জাগাতে না
পারলে সাফল্যের সিড়িতে আরোহণ
করা যায় না। সুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশ
করার একমাত্র পথ সৃষ্টিশীলতা।
যে কাজ নিজেকে আত্মতৃপ্তি দিবে,
আমরা সেই কাজ করবো। কোনো
কাজই ছোট নয়, যদি তাতে প্রবল
ইচ্ছাশক্তি আর আগ্রহ থাকে।
সৃষ্টিশীল মানুষ কখনো থেমে থাকে
না। সৃষ্টিশীলরাই সৃষ্টি করে নিজের
ভবিষ্যত।