পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও ঋণ পরিশোধে নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

35

আগামী তিনদিনের মধ্যে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও মনোনয়নপত্র জমা দানের সাতদিন পূর্বেই প্রয়োজনী বকেয়া বিল প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় চট্টগ্রামের দশটি আসনের ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবেন এমন শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করতেই এ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীগণের পোস্টার, ব্যানার ও দেয়ালিকা, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী এবং নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে অপসারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই আলোকে প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।
জানা যায়, সভায় কিছু জরুরি নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচনে অনেকেই প্রথমবারের মতো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়েছে। ১৪ নভেম্বর রাত ১২টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে লাগানো ব্যানার-পোস্টার নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা জারি কথা জানানো হয়। পাশাপাশি মনোনয়পত্র জমা দেয়ার সাত দিন পূর্বে প্রার্থীরা যাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ করে সেজন্য ফরম নেয়ার সময় বলে দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান পূর্বদেশকে বলেন, মনোনয়নপত্র জমার সাত দিন পূর্বেই প্রার্থীদের সকল ধরনের বকেয়া ও ঋণ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমার দিন যদি এসে বলে আমি গতকাল বকেয়া পরিশোধ করেছি হবে না। নির্বাচন কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমরা সেভাবেই সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করবো।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সরগরম
প্রথম দিনে মনোনয়নপত্র
নিয়েছেন ১৬ প্রার্থী
রাহুল দাশ নয়ন
তফসিল ঘোষণার পর সরকারি ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে প্রথম দুইদিন কোনো প্রার্থীই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। গতকাল সপ্তাহের প্রথম খোলার দিনেই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনজন, বিএনপির চারজন, স্বতন্ত্র সাতজন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে জামায়াতের তিন নেতাও রয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান পূর্বদেশকে বলেন, প্রথমদিনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামিক ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামও দুই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জামায়াত নেতাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, নগর জামায়াতের আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য পদে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনজন। চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবিনা খাতুন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফরিদ মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৩ (স›দ্বীপ) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. নুরুল মোস্তফা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্রসংগ্রহ করেছেন আটজন প্রার্থী। এরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে বিএনপি সমর্থিত মো. মনিরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু তালেব হেলালী, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী এমএ মতিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চারজন প্রার্থী। এরা হলেন- চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী আবুল বশর মো. জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবদুচ ছালাম ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে এমদাদুল হক। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।
জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ৫৬ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ জন ভোটার আছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৫২ জন ও মহিলা ভোটার ২৭ লক্ষ ২৬ হাজার ২২৮ জন। এক হাজার ৮৯৬টি ভোটকেন্দ্রের ১০ হাজার ৬৮৮টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা। এক হাজার ৮৯৬ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১০ হাজার ৬৮৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২১ হাজার ৩৭৬ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে নিয়োজিত থাকবেন।