পেকুয়ায় দা-বাহিনীর দুইপক্ষে গোলাগুলি মহিলাসহ আহত ৩

পেকুয়া প্রতিনিধি

42

পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের জুমপাড়াস্থ নুনাছড়ি এলাকায় দা-বাহিনীর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চোরাই গাছ বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা ও মতবিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে মহিলাসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. সেলিমের স্ত্রী নুরুনাহার, মৃত নুরুল কাদেরের পুত্র দা-বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবদুল হামিদ(৩৩), মৃত বদর আলমের পুত্র মো. জাবের। আহত অবস্থায় তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ গুলি বিনিময় ঘটে। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন।
বটতলি ও নুনাছড়ি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, টইটংয়ের পাহাড়ি এলাকায় প্রতিদিন গোলাগুলি হয়। প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার রাতে দা-বাহিনীর দু’পক্ষে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। আবদুল হামিদ ও পুন্যা নামের একজনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব চলছে টইটং ইউনিয়নে। রাতে তাদের মধ্যে টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবদু জলিল বলেন, পাহাড়ের নুনাছড়ি এলাকায় রাতে আবদুল হামিদ গ্রæপ ও পুন্যা ডাকাত গ্রুপের মধ্য ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। শুনেছি চুরিকৃত গাছ বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা করতে গিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় কয়েকজন আহত হয়। আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে উকিল আহমদ হত্যা মামলাসহ ৮/১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে একজন প্রভাবশালী লোক নিরীহ লোকদের আসামি করার চেষ্টা করছে। ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, রাতে নুনাছড়ি এলাকায় দুই পক্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। আবদুল হামিদসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। এসময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী গোলাগুলিতে মহিলাসহ ৩ জন আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন। কারা এ ঘটনা করেছে স্থানীয়রা ওসিকে অবগত করেছেন। আপনারা ওসির কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।’
ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার পরে আমি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছি। যতটুকু জানতে পেরেছি যারা আহত হয়েছে এবং যারা গুলি করেছে তারা সবাই দা-বাহিনীর সদস্য। বালি, গাছ বিক্রিসহ আরো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের কারণে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আহতও হয়েছে কয়েকজন। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’