পেকুয়ায় কমিউনিটি নিউট্রেশন কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

60

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়ায় কমিউনিটি নিউট্রেশন ওয়ার্কার (সিএনডব্লিউ) পদে নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ঘুষের মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপিপন্থীরা এই চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো নিয়োগ কমিটি ছাড়াই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। মানা হয়নি সরকারি নীকিমালাও। সূত্র জানায়, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ পেকুয়ায় ২৮ জন কমিউনিটি নিউস্ট্রেশন ওয়ার্কার সিএনএন পদে নিয়োগ দিয়েছে। কমিউনিটিভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এ সব জনবল নিয়োগ করা হয়।
সূত্র জানায়, পেকুয়া উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়নে কমিউনিটি নিউট্রেশন ওয়ার্কার সিএনডব্লিউ নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। পেকুয়ায় ১৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এ সব ক্লিনিকের জন্য ২৮ জন সিএনডবিউ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য দু’জন করে কমিউনিটি নিউট্রেশন ওয়ার্কার নিয়োগ পেয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এই নিয়োগে দাতা সংস্থা ইউনিসেফ অর্থের যোগান দিচ্ছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বিকাশ ঘটাতে ইউনিসেফ এ কাজে অর্থ ব্যয় করছেন।
সূত্র জানায়, একটি দালালচক্র মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক বলয়ের সন্তানদের ওই পদে নিয়োগ দেয়। ইউনিয়নের ভোটারও নন এমন অন্য ইউনিয়নের লোকজনকে চাকরি দেয়া হয়েছে। মূলত ২৮ জন পুষ্টিকর্মী নিয়োগের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ২৫ টি পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
রাজাখালী ইউনিয়নে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। পালাকাটা ও মাতবরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ইউপি সদস্য ওসমান গণি জানান, এ নিয়োগ আমরা মেনে নিতে পারি না। টাকার বিনিময়ে গোপনে পুষ্টিকর্মী নিয়োগ দিয়েছে। কেন এসব হয়েছে এর রহস্য বের করা প্রয়োজন। ওই কেন্দ্রের সিএইচসিপি রুবি আক্তার বিউটি জানান, আসলে তারা আমাদেরকে সহায়তা করবে। কিন্তু নিয়োগ হয়েছে এ সব আমিও জানিনা। মগনামা ইউনিয়নের সাতঘরপাড়া ও উত্তর মগনামা ফুলতলা স্টেশনসহ দুটি সিসিতেও পুষ্টিকর্মী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুদিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। ওই কেন্দ্রের সিএইচসিপি সেলিনা জানান, আমি কিছুই জানিনা। আমাদেরকে জানানো হয়নি। কোথাও কোথাও একই পরিবারের পুত্রবধূ ও ননদকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
সিসির সভাপতি মনজুর মেম্বার ও সহ-সভাপতি আবুল কালাম জানান, জায়গা আমরা দিয়েছি ক্লিনিকের জন্য। কমিটিতেও আছি। তারা কিভাবে গোপনে নিয়োগ দেয় এটা বুঝতে পারছি না। শিলখালীর জারুলবুনিয়া জনতা বাজার সিসিতেও আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ করা হয়েছে পুষ্টিকর্মী নিয়োগে। এ ইউনিয়নে দুটি কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ জনই কট্টর জামায়াত-বিএনপির সন্তান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত ঘুষের বিনিময়ে এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী নিজাম উদ্দিন, স্টোর কিপার কাউসার ও সিএইচপি শাহাদাত হোছাইনের যোগসাজশে এসব নিয়োগে দেওয়া হয়। উপজেলার সবকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগপ্রাপ্ত পুষ্টিকর্মী থেকে তারা মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে চাকরি দিয়েছে। বলা হয়েছে এ চাকরি দ্রুত সময়ে সরকারি করা হবে। একটি কেন্দ্রের সভাপতি জিয়াবুল মেম্বার জানান, আমরা আগে থেকে জনবল নিয়োগের এ বার্তা মানুষের কাছে দিয়েছি। যারা দরখাস্ত করেননি, তাদের চাকরি কিভাবে দে?
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানায়, এ নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। নিয়োগ টাকা ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে। বারাইয়াকাটা সিসির রিনা বিলকিস ও শাহীন আক্তার নামক দু’পুষ্টিকর্মী জানান, আমাদেরকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়নি। টিএইচ স্যার তার অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। টাকা দিতে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে এই ২ জন বিব্রত হন। তারা বলেছেন, আমরা টাকা দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিলখালী ইউনিয়নের নিয়োগ প্রাপ্ত নিউট্রেশন ওয়ার্কার জানান, আমরা টাকা দিয়েছি। কাউকে না জানাতে বলেছেন। বলা হয়েছে- এ চাকরি পরে সরকারি হবে। তাই আমরা টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছি।
জানা যায়, বর্তমানে এই পদে চাকরির বেতন ৭ হাজার ৫শ টাকা। চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর তারা চাকরিতে যোগ দেন। জানা গেছে, নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের হাজী হাফেজ আহমদের ছেলে মোঃ ইউনুছ গণি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আবেদন করেছে। এ বিষয়ে পেকুয়ার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ছাবের আহমদ বলেন, আসলে এমন একটি অভিযোগ সিভিল সার্জনকে পেকুয়ার মিডিয়াকর্মীরা দিয়েছেন। তিনি আমলে নিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন জানান, ইউনিসেফের অর্থায়নে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মাত্র তিন মাসের জন্য তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছি। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।