পেকুয়ায় অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার ছাত্রলীগকর্মী

পেকুয়া প্রতিনিধি

9

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ইমরান হোসেন (২০) নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে অপহরণ করা হয়। গত সোমবার বিকাল ৫টায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা হাসের ঘোনা বেড়িবাঁধ থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ইমরান পূর্ব মেহেরনামার ওলা মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ইমরান বাইসাইকেলযোগে বেড়িবাঁধ দিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় হাসের ঘোনা এলাকায় পৌঁছলে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে কিছু যুবক তার গতিরোধ করে। এরপর বেদম মারধর করে তাকে। এক পর্যায়ে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের লোকজন পুলিশ খবর দেন। রাত ৯টার দিকে পেকুয়া থানার এসআই মকবুল, শফিকুল ও মো. মিজবাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। ৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ধানক্ষেত থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তাকে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইমরান জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের এলাকার আলী হোসেনের পুত্র ছাদেকুর রহমান, মুরারপাড়ার নুরুল আমিনের পুত্র মোহাম্মদ বাদশা, আব্দুর রহিমের পুত্র শাহেদ হোসেন পুতু, বাদশা মিয়ার পুত্র জয়নাল আবদীন ও জামাল হোসেনের পুত্র আব্দুল হামিদসহ ১০/১২ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা চালায়। তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি কবরস্থানে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমাকে টানা-হেঁচড়া করে ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার মোবাইল ও নগদ দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ইমরানের বাবা ওলা মিয়া জানান, আমার ছেলে লোহাগাড়া মোস্তাফিজুর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। কয়েক মাস পূর্ব থেকে সে শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইনের বাড়িতে গৃহশিক্ষক হিসেবে পাঠদান করে আসছে। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে এ ঘটনা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা না পেলে তারা আমার ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলত।
পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম. কফিল উদ্দিন বাহাদুর বলেন, নির্বাচনের সময় ইমরান নৌকার পক্ষে কাজ করায় নৌকা বিরোধী সমর্থকরা হামলা করেছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ভূইয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পলিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষে লিখিত এজাহার পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওয়তায় আনা হবে।