পৃথিবীর যে জলাশয়ে ২৫০ ফুট নীচেও ভয়ঙ্কর গ্রোত, কী সেই রহস্য ?

8

একটি ঐতিহাসিক এবং মহাকাব্যিক স্থানের নাম ভীমকুন্ড। এটি নীলকুন্ড নামেও পরিচিত। মহাভারতেও এই জলাশয়ের উল্লেখ আছে। এই ভীমকুন্ডকে ঘিরেই রয়েছে নানা রহস্য-কাহিনী।
এই ভীমকুন্ডের অবস্থান ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলায়। এটি একটি প্রাকৃতিক জলাশয়। কী সেই কাহিনী, জেনে নেয়া যাক।
ভীমকুন্ড দেখতে একটা সাধারণ জলাশয়ের মতোই। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এটা কোনো সাধারণ জলাশয় নয়। এই জলাশয় নাকি এশিয়া মহাদেশে আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্কেত দেয়। তাদের বিশ্বাস, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আঁচ পেলেই ভীমকুন্ডের শান্ত জলে একটা আলোড?ন শুরু হয়ে যায়।
স্থানীয়রা ২০০৪-এর সুনামির সময় ভীমকুন্ডের এই ‘অদ্ভুত ক্ষমতা’ দেখতে পান। সেই সময় শান্ত ভীমকুন্ডের জল ১৫ ফুট উঁচুতে উঠেছিল।
ভীমকুন্ডের অন্য একটা বিশেষত্ব রয়েছে। এর সঠিক গভীরতা এখন পর্যন্ত কেউ মাপতে সক্ষম হননি। স্থানীয় প্রশাসন তো নস্যি, বিদেশি বৈজ্ঞানিকদের একটি দলও ব্যর্থ হয়েছে। তবে ভীমকুন্ডের সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো, এই জলাশয়ের ২৫০ ফুট গভীরে যাওয়ার পরই তীব্র গ্রোতের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। কিন্তু এই গ্রোতের উৎপত্তি রহস্য এখনা ভেদ করা যায়নি।
ভীমকুন্ডের জলস্তর কমানোর জন্য ১৯৭৭ সালে জেলা প্রশাসন তিনটে পাম্প লাগিয়েছিল। কিন্তু পাম্প দিয়ে জল তোলার পরেও দেখা যায় এক ইঞ্চিও জলস্তর কমেনি।
ছতরপুর জেলা কার্যালয় থেকে ৭৭ কিলোমিটার দূরে ঘন জঙ্গলে ভীমকুন্ডের জলে সূর্যের আলো পড়লেই জলের রং নীল দেখায় এবং ঝকঝক করে। এই বিশেষত্বের জন্যই ভীমকুন্ডের আর এক নাম নীলকুন্ড। পুরাণে উল্লিখিত নীলকুন্ডের সঙ্গে নাকি এর মিলও খুঁজে পাওয়া যায়।
ভীমকুন্ড নাম কেন হল, এই কাহিনীও কম আকর্ষণীয় নয়। মহাভারতের সময়ের সঙ্গে এই জলাশয়ের নাম জড়িয়ে আছে।
প্রচলিত বিশ্বাস, ১২ বছর বনবাসের সময় যখন পান্ডবরা এক বছর অজ্ঞাতবাসে কাটাচ্ছিলেন, তখন এই ভীমকুন্ডের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন। সে সময় এখানে ভীমকুন্ড ছিল না। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রৌপদীর খুব পানির পিপাসা পায়। কিন্তু গভীর অরণ্যে পিপাসা মেটানোর মতো কোনো জলাশয়ই খুঁজে পাননি পান্ডবরা। উপায় না দেখে ভীম তার গদা দিয়ে মাটিতে জোরে আঘাত করেন। এর গদার শক্তিশালী আঘাতে মাটি ভেদ করে জল বেরিয়ে আসে। সেই থেকেই ভীমকুন্ড নামের উৎপত্তি।
স্থানীয়রা ভীমকুন্ডের জল খুব পবিত্র বলে মনে করেন। মকর সংক্রান্তির দিন এখানে গোসল করা অত্যন্ত পবিত্র বলে অনেকেই মনে করেন।