পুতিনের অবধারিত জয়ের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন

42

শনিবার রাত পোহালেই ১৮ মার্চ রোববার সকালে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিপুল জনপ্রিয় পুতিনের জয় যে অবধারিত, সে ব্যাপারে তিলমাত্র সংশয় নেই কারো মনে। এজন্য এ নির্বাচন গ্রেফ এক নিয়মরক্ষার নির্বাচন। ‘ফলাফল আগে থেকেই জানা’ এমন এক নিয়মরক্ষার নির্বাচনে রোববার ভোট দেবেন রাশিয়ার ভোটাররা। টানা দ্বিতীয়বার এবং সব মিলিয়ে ৪র্থবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন সেন্ট পিতাসবুর্গে জন্ম নেওয়া বর্তমান দুনিয়ার রাজনীতির সবচেয়ে বড় দাবা খেলোয়াড় ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন।
পুতিনের সবচে বড় প্রতিদ্ব›দ্বী ধনকুবের আলেক্সি নাভালনি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য। প্রতিদ্ব›িদ্বতায় যারা আছেন তাদের সবার ভোট ১৫ শতাংশ হয় কিনা এ নিয়েও সংশয় ঢের। এসব কারণে রাশিয়ায় রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়কে ‘ওয়ান হর্স রেস’ বা ‘এক ঘোড়ার দৌড়’ বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রোববারের নির্বাচনে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ক্রিমিয়ার জনগণও অংশ নেবে। রাশিয়া এখন তাদেরও দেশ। ১৮ মার্চ তারিখটা ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার চতুর্থবার্ষিকী দিবসও বটে। ২০১৪ সালের এই দিনে ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ হয়। রোববার নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোট। প্রথম পর্বের ভোটে নিরঙ্কুশ জয়ী না-পাওয়া গেলে দ্বিতীয় পর্বের ভোট হবার কথা আগামী ৮ এপ্রিল। কিন্তু সে সম্ভাবনা কোটিভাগের একভাগও নেই। কেননা পুতিনের জযী হওয়া নিয়ে তার পাঁড় দুষমনের মনেও কোনো সংশয় নেই।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন-পরবর্তীকালে দ্বিতীয়বার ভোটগ্রহণের প্রয়োজন একবারই হয়েছিল। সেটা ১৯৯৬ সালে। সেবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় গেন্নাদি জুগানভের সঙ্গে তাকে দ্বিতীয়বার ভোটযুদ্ধে নামতে হয়েছিল। পরে অবশ্য ইয়েলৎসিনই জয়ী হন। এরপর অসুস্থ ইয়েলসিন তার পছন্দের ‘যোগ্য লোক’ পুতিনের হাতে রাশিয়া নামের রাষ্ট্রের দায়িত্বভার অর্পণ করে যান। ইয়েলসিনের আস্থা আর নিজের যোগ্যতার প্রমাণ পুতিন দিয়ে চলেছেন কড়ায় গন্ডায় খোদ আমেরিকাকেও ক্ষণে ক্ষণে ঘোলা জল খাইয়ে। আজকের দিনের রাশিয়ায় তার যোগ্যতা ও ক্যারিশমার ধারেকাছে কেউ নেই আর।