পুঁজিবাজার আস্থার সংকট দূর করতে হবে

20

দেশের পুঁজিবাজারের এক অস্থির সময়ে চট্টগ্রামে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো তিনদিনব্যাপী ‘৬ষ্ঠ পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ মেলা ২০১৮’। নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই মেলায় শনিবার সকালে পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার, বিকেলে টেকনিক্যাল সেশন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। তবে পুঁজিবাজারের অবস্থা যাই হোক ক্ষুদ্র ও মাজারি বিনিয়োগকারীদের মেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে তাদের আগ্রহের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তারা এ মেলা থেকে পুঁজিবাজার নিয়ে যে আস্থার সংকট চলছে-এর থেকে উত্তরণের গাইডলাইন চেয়েছেন। কতটুকু এ মেলা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পেরেছে তা বড় কথা নয়, আসল কথাটি হল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে দেশের ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও কর্পোরেট হাউজগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে হবে।
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা ও জ্ঞান না থাকলে পুঁজিবাজার যে কারো জন্য অনুকূল হবে-তা ভাববার কোন অবকাশ নেই। মেলার সমাপনী দিবসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তবে অন্যান্য পরিচালকরা এ কথাও বলেছেন ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। আর এই পরিবর্তনগুলো বাজার বান্ধব হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।
তবে একথা সত্য যে, ২০১০-১১ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে তার রেশ দীর্ঘ পাঁচ বছরের অধিক সময় অব্যাহত ছিল। গতবছর তা অনেকটা কেটে উঠতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৭ সালের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির তেমনটা ব্যবধান ছিলো না। সূচক, দৈনিক লেনদেন, বাজার মূলধন সবকিছুতেই যেন রেকর্ডের ছোঁয়া ছিলো। দুই হাজার কোটির ওপর দৈনিক লেনদেন, সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম, ৪ লাখ কোটি টাকায় বাজার মূলধনের অবস্থান ইত্যাদি ইতিবাচক নির্দেশকগুলো সামনের বাজারকে আরো এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে নিঃসন্দেহে। বাজারের অস্থির অবস্থা উত্তরণের ক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে ২০১৮ সালে বিনিয়োগকারীদের অধিকমাত্রায় আস্থায় আনতে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। আমরা মনে করি, সংস্কার যাই হোক পুঁজিবাজারকে আরো সম্প্রসার ও বিনিয়োগবান্ধব করার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।
আমরা জানি যে, ২০১০-১১ সালের বাজার ধসের পর বিগত ৭ বছরে একটি স্থিতিশীল জায়গায় পুঁজিবাজারে এসে পৌঁছেছে। ভারতের পুঁজিবাজারের সেনসেক্স যেমন একের পর একটি রেকর্ড করে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে যাচ্ছে তেমনি আগামীর পুঁজিবাজার গতিশীল হয়ে এদেশের বিনিয়োগকারীদের মুখেও হাসি ফোঁটাবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ফান্ড ম্যানেজারদের আরো দায়িত্বশীল হলেই প্রাণ ফিরে পাবে পুঁজিবাজার। সম্পূর্ণ প্রফেশনালি সবাই কাজ করলে এ মার্কেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসতে বাধ্য। বড় বিনিয়োগকারী বা বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে ফান্ড ম্যানেজারদের দায়িত্ব অনেক। তারা বিদেশি বিনিয়োগ আনতে বিভিন্নভাবে তাদেরকে প্রভাবিত করে। আর আমাদের দেশের ফান্ড ম্যানেজারদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে পুঁজিবাজার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এছাড়া বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের উল্টা-পাল্টা না বুঝিয়ে বরং অনুপ্রাণিত করতে হবে।
আমরা যদি নিজেরাই আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে না পারি তাহলে বাইরের লোকেরা কিভাবে আস্থা পাবে। অনেক বিনিয়োগকারী হাতে টাকা নিয়ে সাইডলাইনে বসে রয়েছেন। মার্কেটটা একটু পজেটিভ মুভমেন্টে গেলেই তারা বিনিয়োগে আসবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এখনো ইনকাম ট্যাক্সের আইনসহ বিভিন্ন আইনে পুঁজিবাজারের ব্যবসাকে ফটকা ব্যবসা হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। আর এই ফটকা শব্দটি থেকে বের হয়ে শুধুমাত্র ব্যবসায়ী হিসেবে বিনিয়োগকারীরা যেন নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।