পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ চাই

..

35

চট্টগ্রামে এবং পার্বত্য জেলাসমূহে বর্ষাকালে পাহাড়ধসে বহু লোক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ কমিটি পাহাড়ধস ও তৎসংশ্লিষ্ট মৃত্যু ও হতাহত নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসবেন এটাই স্বাভাবিক। চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি পাহাড়ের পাদদেশে ৬৮৪টি পরিবারের তিন হাজার ৪৯১ জন অবৈধভাবে বসবাস করছে। যা দৈনিক পূর্বদেশের প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে। ৩,৪৯১ জনের উল্লেখ থাকলেও এর সংখ্যা আরো বেশি বৈ কম নয়।

দৈনিক পূর্বদেশের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারা এসব পাহাড়ে কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের নাম-পরিচয় পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন সরকারি পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বর্ষায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থেকে বসবাসকারিদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে পারছে না তা আমাদের বুঝে আসে না। সরকারি পাহাড়ের সাথে জড়িত রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, চসিক ও ওয়াসা। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উল্লেখ্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং কিছুসংখ্যক সুবিধাভোগী মানুষ পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা সৃষ্টি করেছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরিকারি ব্যক্তিবর্গ মোটা অংকের আয় করছে এসব স্থাপনা থেকে। কিছু বাস্তুহারা, দরিদ্র মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে  এসব স্থাপনায়। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোন স্থাপনার মালিক হলেও তাদেরকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের চাঁদা দিতে হয়। চট্টগ্রাম শহরে আবাসন সমস্যার কারণে স্বল্প আয়ের দরিদ্র সাধারণ মানুষ এসব স্থানে কষ্ট করে থাকতে চায়। জীবন রক্ষায় আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি এদের পুনর্বাসনের জন্য। সরকারি পাহাড় অবৈধভাবে যুগযুগ ধরে দখল করে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ যা খুশি করবে আর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি অবৈধ স্থাপনা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না তা কি করে হয়। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭তম সভা পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নিÑ এমন সংবাদ জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি পাহাড়সমূহের সাথে জড়িত মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সহযোগিতা করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে সরকারি পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কোন সমস্যাই নয়।

আমরা মনে করি সংশ্লিষ্টদের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে সহায়তা করা উচিৎ। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলে পাহাড় ধসে মৃত্যুর আর সম্ভাবনা থাকে নাÑ এমন মন্তব্য চট্টগ্রামবাসীর।