পার্বত্য চট্টগ্রামে বনজসম্পদ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

5

জনবল ও অবকাঠামো সংকটে দাফতরিক কাজসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বনজসম্পদ রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ। প্রয়োজন সংখ্যক জনবল না থাকায় বন পাহারা এবং পাচার রোধে ব্যাহত সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অবকাঠামো সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দাফতরিক কাজ। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বন রয়েছে। কিন্তু জনবলের অভাবে এসব বন রক্ষায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সরকারি বন থেকে গাছ কেটে পাচার করছে বনদস্যু ও কাঠ পাচারকারীরা। এরই মধ্যে নিধন হয়ে গেছে সরকারি বিভিন্ন বন বাগানের গাছ। উজাড় হয়ে গেছে সুবলং, ফকিরাছড়ি, রাইংখিয়ং, বরকল, মাহিল্যাসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বন উজাড় হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য। অন্যদিকে জেলা সদরে অবস্থিত বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিস জরাজীর্ণ, ছিন্নভিন্ন। বহু বছর আগে নির্মিত এসব অবকাঠামো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেখা যায়, রাঙামাটি জেলা সদরে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান কার্যালয় ও রেঞ্জ অফিসগুলোর টিনের ছাউনির অবকাঠামো প্রায় জীর্ণছিন্ন অবস্থার মধ্যে বেহাল দশায়। প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকার রেঞ্জ ও বিট অফিসগুলোর টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়ার অবকাঠামোর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক রেঞ্জ অফিস পরিচালনা করা হচ্ছে জেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে। এসব সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ দরকার বলে মনে করছেন বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, তার বিভাগে মঞ্জুরিকৃত পদ ২৬৯। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৬৭ জন। শূন্য রয়েছে ১০২ পদ। মঞ্জুরিকৃত যেসব পদ সেগুলো অপ্রতুল। এ বিভাগে জনবল দরকার কম্পক্ষে ৪০০।
্রতার ওপর মঞ্জুরিকৃত পদগুলোর মধ্যে ১০২টি শূন্য। বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিসের স্থাপনাগুলো বহু আগের। টিনের ছাউনির এসব স্থাপনা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত জায়গার সংকুলানও নেই এসব অবকাঠামোতে। অনেকগুলো রেঞ্জ ও বিট অফিসের স্থাপনা অকেজো হয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বনজসম্পদ রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বন বিভাগ। কিন্তু বিদ্যমান সংকটের কারণে কাজে ব্যাহত সৃষ্টি হচ্ছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে বনজসম্পদ রক্ষাসহ দাফতরিক কাজ নিয়ে। সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আশা করছি এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যর পদক্ষেপ নেয়া হবে।