পার্বত্যাঞ্চলের প্রথম ডাক বিভাগে নেই কোন প্রাণচাঞ্চল্য

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, রামগড়

3

তৎকালীন ১৯২০ সালের প্রাচীন মহকুমা শহর বর্তমানে খাগড়াছড়ি রামগড় উপজেলার একমাত্র বৃহত্তর ডাকঘরে প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে সেই দিনের পুরোনো দিনের গান গুলি-চিঠি দিও প্রতিদিন চিঠি দিও, একটা চিঠি দিলাম লিখে মনের কথা আজ তোমাকে ইত্যাদি। ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়নে চিঠিপত্র আদান প্রদান কমে যাওয়ায় দিন দিন রাজস্ব আয় হ্রাস পাচ্ছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিঠিপত্র ও টেলিগ্রাম-টেলিগ্রাফের পরির্বতে মোবাইলে এসএমএস ও ই-মেইল প্রযুক্তির কারনে ডাকঘরে এখন আর সাধারণ মানুষের তেমন যোগাযোগ নেই। এক সময়ের এই জনপ্রিয় ডাক বিভাগ এখন প্রায় নির্জিব হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রামগড়ের প্রধান ডাকঘরই ছিল পার্বত্যাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা, ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ কারনেই রামগড় ডাক বিভাগ সহ প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে শাখা ডাকঘর স্থাপিত হয়। এ পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সাধারণ জনগনের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল এসব ডাকঘর। জানা গেছে, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রসারের কারণে সে কালের ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের এখন আর তেমন আগ্রহ নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তির কারনে এখন জনগন অতি দ্রুত দেশ-বিদেশের খবরাখবর আদান-প্রদান করতে পারছে। বর্তমানে বহুল প্রচলিত ইন্টারনেট, মোবাইল, ই-মেইল সহ বিভিন্ন সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সবকিছু জানা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ডাক বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বিলুপ্তির পথে। রামগড়ের একমাত্র প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার তাজ আহম্মদ এ প্রতিনিধিকে জানান, বাংলালিংক নেটওয়ার্কের কারনে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার (ইএমইএস) সার্ভিস এর অব্যবস্থাপনা জনিত পার্বত্য চট্টগ্রামে পোস্টঅফিস গুলি গ্রাহক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শত গ্রাহকগণ ইএমইএস বাংলালিংক নেটওয়ার্কের কারনে সাধারণ জনগন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের ডাকবিভাগ সমূহে বাংলালিংক নেটওয়ার্ক কার্যক্রম চালু করা হলে এ বিভাগ থেকে সরকার রাজস্ব আয় করতে পারত। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, ডাক বিভাগ কে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা না হলে এ বিভাগটি অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। রামগড় পৌর মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান এর নিকট পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান ডাকবিভাগকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্নতি করনের বিযয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, নেটওয়ার্ক কার্যক্রম দ্রুত ব্যবস্থা সহ ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার (ইএমইএস) সার্ভিস চালুর বিযয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।