বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত হচ্ছে

পার্বত্যবাসীর মধ্যে আর্থিক অগ্রগতির আশার আলো

রামগড় প্রতিনিধি

6

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মহামনি দারোগা পাড়া সীমান্ত এলাকায় ফেনী নদীতে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণের ছোঁয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের লাখো মানুষের আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে এমনই আশায় অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রামগড় পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের জানান, মৈত্রী সেতু ১ নির্মাণে আর কোন সমস্যা রইলনা, এখন সেতুটি পুরোদমে কাজ শুরু হবে। এসময় মন্ত্রী আরো জানান, সেতুর পাশাপশি রামগড়-বারইয়ার হাট ৩৮ কি.মি. সড়ক চার লেনে উন্নিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অতিথিরা সড়কসহ সেতু নির্মাণ স্থান পরিদর্শন করেন। এদিকে গত ১৭মে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো.আব্দুল মান্নান মৈত্রী সেতু ১ পরির্দশন কালে সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অতুলনীয়ভাবে এগিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধের অবদান স্বরূপ ফেনী নদীর উপর প্রস্তাবিত এই ব্রিজ বাংলাদেশ ও ভারতের দু’দেশের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি সংযোগ, ব্যবসা, পর্যটনসহ সুসম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করবে।
গত ৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় সফরে দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রামগড় পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে ব্রিজটি নির্মাণের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, রামগড়ের মহামুনি এলাকার ফেনী নদীতে মৈত্রী সেতু ১ নির্মাণে আর কোন বাধা রইলো না। এটি নির্মিত হলে- এই অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার মহামুনি ও ভারতের সাবরুম মহকুমার শহরের দোলবাড়ী সীমান্ত সংযোগ ফেনী নদীতে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রামগড় উপজেলা পরিষদের নবর্নিবাচিত চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা এ প্রতিনিধিকে বলেন- বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে রামগড়ে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় পার্বত্যবাসী আনন্দিত। স্থলবন্দরটি পুরোদমে চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখাসহ আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে এমনটি আশা করছেন।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সুমদ্র বন্দরকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর- পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলসহ এ সাতটি রাজ্যের(সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষে দুই দেশের সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে স্থলবন্দরকে ঘিরে বন্দর টার্মিনাল, গুদামঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রনে ঢাকা সফরে আসলে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষে ফেনী নদীর উপর রামগড়-সাবরুম স্থানে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। মৈত্রী সেতু ১ নির্মাণে গত ১২ জানুয়ারি দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) সংস্থাটি ৮২.৫৭ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪.৮০ মিটার প্রস্থের ব্রিজের কাজটি ২৭ অক্টোবর ২০১৭ হতে ২৭ এপ্রিল ২০২০ সাল পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সেতুটি নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দরপত্র আহব্বান করলে আগরওয়াল কনস্ট্রাকশন নামে গুজরাটের একটি প্রতিষ্ঠানকে সেতুটি নির্মাণের জন্য মনোনীত করে ভারত সরকার। আন্তর্জাতিক মানের সেতুটি যুক্ত হবে রামগড় বারইয়ার হাট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে অপরদিকে ভারত অংশে নবীনপাড়া ঠাকুরপল্লী হয়ে সাব্রুম আগরতলা জাতীয় সড়কের যুক্ত হবে।
এদিকে বাংলাদেশ- ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় রামগড়বাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দুইদেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের পার্বত্য খাগড়াছড়ি রামগড়-ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমা শহর এর শুল্ক স্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান এবং রামগড় স্থল বন্দর চালু ফলে এলাকার অনেক বেকার সমস্যা সমাধান সহ পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারণের অর্থনীতিসহ উন্নয়ন-অগ্রগতি তরান্বিত করবে।