পানি যখন অসুখের কারণ

20

কার্ডিফের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী শেরেল ফারুগিয়া পানির সংস্পর্শে এলেই তার শরীর ছোট ছোট দানায় ভরে ভরে যায়। সেগুলো যেমন চুলকায়, তেমনি তীব্র ব্যথাও হয়।
পুরোপুরি সেরে উঠতে অনেকটা সময় লাগে প্রতিবারই। চিকিৎসকেরা বলেছেন, এই অসুখের নাম অ্যাকুয়াজেনিক আর্টিক্যারিয়া। সহজ বাংলায় যার পানিতে অ্যালার্জি।
কিন্তু মানুষের কিভাবে পানিতে অ্যালার্জি হয়? শেরেলের জবাব এরকম, কারণ এটা মানুষের ত্বকের একটি অবস্থা। যদিও মানব শরীরের বেশিরভাগ অংশই তো পানির তৈরি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সে যুক্তি কাজে আসছে না, কারণ আমার ত্বকে পানির স্পর্শ লাগলেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
শিশুকাল থেকে শেরেলের এই অসুখ ছিল না।
এ বছরের শুরুতে সন্তান জন্ম দেবার ছয় সপ্তাহ পর থেকেই তিনি এ রোগের উপসর্গ টের পেতে শুরু করেন।
কিন্তু পিপাসা পেলে শেরেল কি পান করেন? দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার কাজ কিভাবে চলে?
পানি খাই, প্রচুর পরিমাণেই পানি পান করি, জুস বা যেকোনো তরল। কারণ আমার শরীরের অভ্যন্তরে পানির বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় না, আমি ঠিকমতই পানি পান করতে পারি। আমি ২/৩ মিনিটের বেশি গোসল করতে পারি না। এরচেয়ে বেশি সময় গোসল করলে তার ফলাফল হবে খুবই ভয়াবহ। সেজন্য আমি গোসলে যাবার আগে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার সব কিছু ঠিকঠাক করে তারপরই বাথরুমে ঢুকি। যাতে সেসময় আমাকে হাতড়াতে না হয়।
কিন্তু এতো গেল দৈনন্দিন কাজকর্ম, পথচলতি হঠাৎ বৃষ্টিতে পড়লে কি হয়? অন্য সবার কাছে হয়তো বিষয়টি নিয়ে কিছুটা রোমান্টিসিজম থাকতে পারে, শেরেলের মোটেও তা নেই এখন আর।
মুষলধারে বৃষ্টি হলে আমি একেবারেই ঘরের বাইরে যাই না। কারণ তাতে হয়তো আমি খুব খারাপভাবে আক্রান্ত হবো।
কিন্তু কোন কাজে বাইরে যেতে হলে বা কোন কাজ থাকলে আমি নিয়মিতই আবহাওয়ার খবর রাখি। আমাদের এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়, সেজন্য সাবধান হয়েও অনেক সময় তেমন লাভ হয় না।
গত কয়েক মাস ধরে শেরেলকে নতুন বাচ্চা সামলানোর পাশাপাশি ভুগতে হচ্ছে আজব এই রোগে। পরিবারের লোকেরা আর প্রতিবেশীরাও অবাক এই রোগের উপসর্গ আর ভয়াবহতা দেখে। প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেই ভেবেছিলেন, শেরেলের কঠিন কোন রোগ হয়েছে।
পরে নিজের রোগের ব্যপারে জানার পর নিজের শরীরে শেরেল এক ফোটা বৃষ্টি আর একটি ছাতার ট্যাটু করিয়েছেন, যা তার রোগের অবস্থা বোঝায়। কিন্তু কি চিকিৎসা এ রোগের?
আমাকে খুব শক্তিশালী অ্যান্টি-হিস্টামিন ওষুধ দেয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। এর বাইরে ইউভি থেরাপি আছে যা আপনার ত্বকের কোষকে শক্তিশালী করে, কিন্তু এর ঝুঁকিও আছে।
একজন ডাক্তার বলেছেন, আমি আরেকটি সন্তান নিলে হয়তো এ অবস্থা বদলাতে পারে। আমি আমার স্বামীকে আরেকটি সন্তান নেবার ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করছি।
কিন্তু আরেকটি সন্তান নিলেই যে শেরেল সেরে উঠবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই, যে কারণে তার স্বামী তাদের বাচ্চাটির এত অল্প বয়সেই আরেকটি সন্তানের ব্যাপারে তেমন উৎসাহী নন।
কিন্তু বিরল ধরণের রোগ হওয়ায়, শেরেলকে নির্ভর করতে হচ্ছে নতুন এবং অজানা চিকিৎসার ওপর।