হালিশহরে নেমেছে ১২ টিম

পানিতে জীবাণু পাওয়া না গেলেও তদারকিতে ওয়াসা

এম এ হোসাইন

25

হালিশহরে সাম্প্রতিক জন্ডিস রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়াসার ১২টি টিমকে তদারকিতে নামানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পানি সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তবে ওয়াসার পানিতে কোন ধরনের জীবাণু পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায়ও ওয়াসা তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোথাও কোন ধরনের লিকেজের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, হালিশহরে জন্ডিসের প্রকোপ বাড়ার খবর পাওয়ার পর পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকার ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ওয়াসার পানিতে জন্ডিসের জন্য দায়ী কোন জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আমাদের তদারকি টিম নিয়মিত আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকায় মনিটরিং করছে। কোন লিকেজ পাওয়ার অভিযোগ আসলে দ্রæত সময়ের মধ্যে সেটা সমাধান করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। যাতে পানিতে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকে। আগে ওয়াসার প্রতিলিটার পানিতে ক্লোরিন ছিল দশমিক ৪ মিলিলিটার। এখন তা বাড়িয়ে প্রতিলিটার পানিতে ১ মিলিলিটার করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে দেড় থেকে দুই পয়েন্ট পর্যন্ত করা হবে।
হঠাৎ করে হালিশহর এলাকায় জন্ডিসের প্রদুর্ভাব দেখা দেওয়াতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিম করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়াসার পানিতে কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ওয়াসার পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছিল, রিজার্ভার ট্যাংক অপরিষ্কার থাকার কারণেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া হালিশহর এলাকার প্রায় বাড়িতেই সেফটিক ট্যাংক নেই। বাড়ির সুয়্যারেজ বর্জ্য সরাসরি নালানর্দমায় চলে যায়। বৃষ্টি হলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রায় বাড়ির নিচ তলায় পানি উঠে। জলাবদ্ধতার পানি বাড়ির ওভারহেড ট্যাংকে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। এতে এলাকার মানুষ জন্ডিসের জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছে।
কথা হলে ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডমিন) গোলাম হোসেন বলেন, হালিশহর আগ্রাবাদ এলাকায় আমারা নিয়মিত মনিটরিং করছি। কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের ১২টি টিম সেখানে নিয়োজিত। টিমগুলো নিয়মিত সেখানে তদারকিতে থাকবে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো পানির নমুনা পরিক্ষা করে দেখা হয়েছে। ওয়াসার পানিতে কোন ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
একই বিষয়ে কথা হলে ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইয়াকুব সিরাজদৌল্লা বলেন, হালিশহরে আমাদের তদারক টিম প্রতিদিন কাজ করছে। নিয়মিত তদারকি কাজ অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোনো লিকেজের খবর বা পানির সমস্যা হলে সাথে সাথে অ্যাকশনে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আমাদের কোন ত্রুটি দেখা যায়নি।