পাটের দাম নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

9

বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। পাটের পণ্য ব্যবহারে সরকারি নানামুখী উদ্যোগ এবং দেশের আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পাট চাষে গদ কয়েক বছর কৃষকরা আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। জেলা পাট অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, জেলায় এবার পাটের উৎপাদন ভালো এবং পাটের চাহিদাও রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। তবে দাম নিয়ে চিন্তিত জেলার পাট চাষিরা। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সরকারি দাম না পাওয়ায় আগামীতে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেও জানান একাধিক পাট চাষি। পাটের ভরা মৌসুমে পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াকে দায়ী করছেন তারা।
অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষিদের কাছে পাটের গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাষিদের ঘরে থাকা পর্যন্ত পাটের দাম বৃদ্ধি পায় না। কৃষকরা তাদের পাটের ন্যায্যমূল্য পায় না। এর পরিবর্তে মধ্যসত্বভোগী ও পাটের অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ পাট চাষিদের। জেলা পাট অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৮ হাজার ৭৩৫ একর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৭০ হাজার ৯৫১ বেল। চলতি মৌসুমে পাট চাষ হয়েছে ৮৯ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮০০ একর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করবে বলেও জানা যায়। এদিকে, ২০১৮ মৌসুমে ৬৮ হাজার ৮১৩ একর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ ২১ হাজার ৯০০ বেল। উৎপাদন হয়েছিল তিন লাখ ৬১ হাজার ৯৫৪ বেল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হাজার ৫৪ বেল বেশি উৎপাদন হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এবছর জেলায় পাট চাষ বেড়েছে ২০ হাজার ৭২২ একর।
এদিকে পাট চাষিদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর পাটের চাষ কম হয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পাটচাষি আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন তিনি। এতে খরচ ও শ্রমিকের খরচ দিতেই হিমসিম খেতে হয়েছে। পাট নিড়ানি, পাট কাটা, পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিলো না। আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে নিড়ানি, কাটা, টানা, জাগ দেওয়া, আঁশ আলাদা করা, শুকাতে প্রায় ৩৩ জন শ্রমিক লাগে। জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে দেওয়া লাগলে এতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এছাড়া জমি এবং সার-বীজ তো আছেই। সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো টাকার জন্যই পাট চাষ করছি, তবে আমাদের ঘরে যখন পাট থাকে তখন পাটের বাজার দর মণপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা হয়। আর যখন কৃষকের ঘরে পাট থাকে না তখন এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ পর্যন্ত হয়। এক বিঘা জমিতে ৭-৮ মণ পাট হয় বলেও জানান তিনি।