পাখি শিকার বন্ধে ম্যাগপাই

মফিজুর রহমান

69

পাহাড়ঘেরা সবুজ অরণ্য গাছ-গাছালিতে পরিপূর্ণ সুখবিলাস গ্রামে এক সময়ে অসংখ্য পাখির বিচরণ ভূমি ছিল। প্রতিদিন শিকারের ফলে কমতে থাকে নানা প্রজাতীর পাখি। স্থানীয় পাখি শিকারি এবং পাশ্ববর্তীর উপজাতীয় এলাকার শিকারিরা দল বেঁধে গ্রামে প্রবেশ করে বছরের পর বছর পাখি শিকার করায় ধীরে ধীরে কমতে থাকে পাখির সংখ্যা। পাখি শিকার বন্ধে গ্রামের যুবকরা মিলে ২০১৭ সালে গঠন করে ‘ম্যাগপাই’ পাখি সংরক্ষণ কমিটি। কমিটি গঠনের পর থেকে তারা গ্রামে পাখি শিকার বন্ধ এবং পাখির সংখ্যা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। সুখবিলাস গ্রামে পাখি শিকার করে প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্টে যে মহোৎসবে মেতে ছিল স্থানীয় এবং পাশ্ববর্তী উপজাতীয় এলাকার শিকারিরা তার ইতি ঘটে ‘ম্যাগপাই’ এর সফল কর্মকান্ডে। পাখি শিকার করলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে সেই বার্তা পৌঁছে দেয় ‘ম্যাগপাই’ পাখি সংরক্ষণ কমিটি। কমিটির সদস্যদের সাহসী পদক্ষেপ নানামুখী কার্যক্রম বিভিন্ন সময় গ্রামে দল বেঁধে টহল, পাখির শিকার বন্ধে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং এলাকার মানুষদের সচেতনতার মাধ্যমে পাখি শিকার বন্ধ হতে থাকে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা। সফলতার পরবর্তী কার্যক্রম হিসাবে হাঁড়ি বসাতে শুরু করে কমিটির সদস্যরা।
কমিটির আহব্বায়ক এম এ ফাহাদ খান বলেন, প্রতিবছর কালবৈশাখী ঝড় এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গ্রামে বিভিন্ন প্রজাতীর অসংখ্য পাখি প্রাণ হারায়। বিনষ্ট হয় বাসা, ডিম এবং মারা পড়ে পাখিদের ছোট ছোট বাচ্চা। বেঁচে যাওয়া পাখিরা রেহায় পায় না শিকারিদের হাতে। বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রামের সৌন্দর্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা মানুষের দায়িত্ব। প্রকৃতির সৌন্দর্য পাখি শিকারিদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ‘ম্যাগপাই’ পাখি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করি। ‘আমাদের পাখি আমাদের সম্পদ, রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের’ মূলত এই স্লোগান নিয়ে গত এক বছর যাবৎ আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সফল পদক্ষেপের ফলে পাখি শিকার বন্ধ হয়। এখন আমরা গাছে গাছে হাঁড়ি বসানোর কাজ শুরু করি। প্রকৃতির মাঝে পাখিদের স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দেওয়া এবং নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের মূল দায়িত্ব।
পাখি শিকার বন্ধ এবং পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামবাসী কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। হাজার হাজার পাখিতে পরিপূর্ণ হোক সুখবিলাস গ্রাম এই প্রত্যাশা গ্রামবাসীর। এই কাজে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন মফিজুর রহমান, আবদুর রহিম, ড. রোস্তম আলী, মো. সফি, কামাল উদ্দীন, মোর্শেদ বাবলু, নাসির উদ্দিন এবং নুরুল হকসহ জুনিয়র সদস্যবৃন্দরা।