পাউবোর প্রকল্পে ফিরবে দোহাজারীর ঐতিহ্য

রাহুল দাশ নয়ন

17

সাঙ্গু নদী ও চাঁদখালী নদী তীর সংরক্ষণ এবং ড্রেজিংয়ে ১৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্র আহব্বান শেষে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করার পরপরই কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার দুই নদী তীর ভাঙনরোধ হবে এবং মানুষের মধ্যে কৃষি নির্ভরশীলতা বাড়বে। এছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের একসময়ে ব্যবসায়ীক কারণে প্রসিদ্ধ এবং বন্দরখ্যাত দোহাজারীর ঐতিহ্যও ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘একসময় দক্ষিণ চট্টগ্রামে নদীবন্দর ছিল দোহাজারী। এ বন্দর ঘিরেই দোহাজারীতে একসময় প্রচুর লবণ মিল ছিল। নদী ভরাটের কারণে ধীরে ধীরে তা বন্ধ হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে প্রকল্পটি নিয়েছে এতে দোহাজারীর পুরানো ঐতিহ্য ফিরবে। নদী ড্রেজিংয়ের কারণে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে সেচ সুবিধা বাড়বে। এতে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে। সেই সাথে নদীর দুই তীর রক্ষা পেলে ভাঙন থেকেও মানুষ বাঁচবে।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সাঙ্গু নদীর ডান তীর সংরক্ষণ করা হবে ২১৫০মিটার। এরমধ্যে চর-বরমায় ২৫০ মিটার, দ্বীপ পাড়ায় ৩০০ মিটার, বৈলতলী রশিদিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ২০০ মিটার, চর-খাগরিয়ায় ২০০ মিটার, রাই-জোয়ারায় ৩০০ মিটার, দিয়ারকুলে ৫৫০ মিটার, চিরিংঘাটা ১৫০ মিটার, ধোপাছড়ি বাজারে ২০০ মিটার কাজ হবে। সাঙ্গু নদীর বাম তীরে ২০৫০ মিটার তীর সংরক্ষণ করা হবে। এরমধ্যে বাংলা বাজারে ৩০০ মিটার, দক্ষিণ চরতিতে ১৫০ মিটার, কাটগড়ে ৮০০ মিটার, বিশ্বাসহাট, ধর্মপাড়ায় ২৫০ মিটার, পুরানগড় মসজিদ এলাকায় ২০০ মিটার, বৈতরনীতে ২০০ মিটার, শীলঘাটা বড়–য়া পাড়ায় ১৫০ মিটার কাজ হবে।
চাঁদখালী নদীর ডান তীর সংরক্ষণে কেশুয়ায় ২০০ মিটার, ডলু নদীর ডান তীর সংরক্ষণে ইলুয়া জলদাসপাড়া, স্টীল ব্রীজ, পূর্ব ডলু, পূর্ব ঘাটিয়াডাঙ্গা, ইছামতি, আলীনগড়ে ৯০০ মিটার, ডলু নদীর বাম তীর সংরক্ষণে হিলিমিলি, মেহেদিপাড়া, রামপুরে ৪৫০ মিটার কাজ হবে। সাঙ্গু নদীর ডান তীরে ৭৮০ মিটার মেরামত হবে। এরমধ্যে চর-বরমায় ৩৫০ মিটার, দ্বীপ পাড়ায় ১৫০ মিটার, চর-খাগরিয়ায় ১০০ মিটার, ধোপাছড়িতে ১৮০ মিটার কাজ হবে। চাঁদখালী নদীর ডান তীরে চন্দনাইশের কেশুয়া অংশে ৪০০ মিটার নদী তীর মেরামত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা পূর্বদেশকে বলেন, ‘সাঙ্গু ও চাঁদখালীর নদীর তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিংয়ে ১৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্স টিম প্রি-ওয়ার্ক সম্পন্ন করলেই কাজ শুরু হবে। চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় এখন হঠাৎ কোথাও কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এ প্রকল্পে ভাঙন রোধ হবে। এতে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ হবে। নদীর গভীরতা স্বাভাবিক থাকলে পানি প্রবাহ বাড়বে। যে কারণে নদীর উভয় পাশে কৃষি আবাদও বাড়বে। তিন উপজেলার মানুষ এ প্রকল্পে সুফল ভোগ করবেন।’