পর্যটকের পদচারণায় মুখর সুন্দরবন

19

প্রতিবছর ডিসেম্বর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। কিন্তু এবছর ওই সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতোদিন পর্যটকশূন্য ছিল সুন্দরবন। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে। জমে উঠতে শুরু করেছে এ খাতসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাÐ।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রায় দুইমাসের ‘খরা’ কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে মার্চ পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকদের আনাগোনা আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি দূরত্বের দিক দিয়ে লোকালয়ের সবচেয়ে কাছের ও দর্শনীয় হওয়ায় এখানে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশী-পর্যটক লেগেই রয়েছে। করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ফুট টেইলার, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, লবণ পানির কুমির, মায়া ও চিত্রল হরিণ, বানর ও বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপসহ বিভিন্ন পশু-পাখি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন পর্যটকরা।
এছাড়া পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর, হাড়বাড়িয়াসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বল্প সংখ্যক বন বিভাগের কর্মচারীকে।
মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রæয়ারি) সকালে করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবীর বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছর ডিসেম্বর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করে সুন্দরবন। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে জাতীয় নির্বাচনের কারণে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে সুন্দরবনে।
সুন্দরবনে ভ্রমণে আসা শেরপুর জেলার নকলা থানার মনির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সাতদিনের ভ্রমণে ছোট ভাইকে নিয়ে এসেছি। করমজল, হারবাড়িয়াসহ বেশ কিছু এলাকা দেখা হয়েছে। শীত কম থাকায় ঘুরে আনন্দ পাচ্ছি।
শীত মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে সুন্দরবনে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। এমনটি মনে করছেন ট্যুর অপারেটাররা।
মোংলা বন্দরের বাদাবন ইকো-কটেজের পরিচালক মো. লিটন জমাদ্দার বাংলানিউজকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ একটু আতঙ্কে ছিলো। যার কারণে শীত মৌসুমে আশানুরূপ পর্যটক ছিলো না। জানুয়ারির শেষ থেকে ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের পদচারণায় সুন্দরবন এখন মুখরিত।
তিনি জানান, ঘরে বসে সুন্দরবনের পাক-পাখালির ডাক, পায়ে হেঁটে বনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ, নিরাপত্তার সঙ্গে রাতযাপন, মানসম্পন্ন খাবার, স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ থাকায় পর্যটকরা এখন অনেকে কটেজে রাত্রিযাপন করেন।
খুলনা মহানগরীর অভিজাত হোটেল ক্যাসল সালামের অপারেশনস ম্যানেজার আজম মালিক বাংলানিউজকে বলেন, হাল্কা শীতের আমেজ গায়ে মেখেই ‘সুন্দরী’ সুন্দরবনকে দেখতে বেরিয়ে পড়ছেন ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি। এরইমধ্যে বহু পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন সুন্দরবনে। যারা অনেকেই বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকরা অনেকেই উঠেছেন আমাদের হোটেলে। মঙ্গলবার বাঘ, কুমির, হরিণের পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে চাক্ষুষ দেখতে হোটেলে উঠেছেন ১২ জন বিদেশি পর্যটক।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি এম নাজমুল আজম ডেভিড বাংলানিউজকে বলেন, শীতের শেষে খরা কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে সুন্দরবন। পর্যটকদের আনাগোনায় খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।