শুরু হলো পিইসি পরীক্ষা’১৮

পরীক্ষা চলাকালীন প্রস্তুতি

লিটন দাশগুপ্ত

18

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ’১৮ শুরু হয়েছে গত পরশু অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর। সেই অনুযায়ী ইতোমধ্যে ইংরেজি ও বাংলা দুইটি বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আজ চলছে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা। কচিকাচা শিশু শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে পরীক্ষার হলের পরিবেশ পরিস্থিতি জানতে বা বুঝতে পেরেছে। পরীক্ষার্থী হিসাবে হলে নিজেদের করণীয় সম্পর্কে অবগত হয়েছে। একই সাথে পরীক্ষার ভয় ভীতি, দুর হয়ে একটি সামগ্রিক পরিবেশের সাথে তারা যে অভিযোজিত হতে পেরেছে, এতে কারো কোন সন্দেহ নেই।
তারপরেও, অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থী তথা পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ কিছু পরামর্শ গ্রহন করলে, শিক্ষার্থী নিজেরা ও পিতা-মাতা তাঁদের প্রিয় সন্তান আরো সক্রিয় হয়ে সফলভাবে যেমন পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে, তেমনই পরীক্ষায় নম্বরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রত্যাশা পূরনে সহায়ক হবে।­­­­­
তাই আর দেরী করা সমীচীন হবেনা, দেয়া যাক পরীক্ষা চলাকালীন শেষ সময়ে আমার কিছু সংক্ষিপ্ত পরামর্শ।
১) প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী চলমান পরীক্ষায় নতুন ভাবে কোন প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থী নিজে শিখন কিংবা অভিভাবক বা শিক্ষক কর্তৃক শেখানো বিশেষ কোন প্রয়োজন নেই। তবে পূর্বে শেখা প্রশ্নের উত্তর গুরুত্ব অনুযায়ী বার বার পুনরাবৃত্তি খুবই জরুরী।
২) শেষ হয়ে যাওয়া পরীক্ষায়, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের যদি, কোন ছোটখাটো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, সে জন্যে কোন পরীক্ষার্থী নিজে বা কোন অভিভাবক চিন্তা না করার জন্যে পরামর্শ প্রদান করা হল।
৩) সমাপ্ত হওয়া পরীক্ষায়, শতভাগ উত্তর দিতে না পারলেও বিশেষ ক্ষতি নেই। মনে রাখতে হবে শতভাগ পরীক্ষার্থী যে, প্রশ্নের শতভাগ উত্তর দিতে পারবে এই রকম কোন কথাও নেই।
৪) শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে, ছোটখাটো ভুলত্রুটি হওয়া বা সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যা সাধারণত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর এই রকম হয়ে থাকে।
৫) শিশু পরীক্ষার্থীদের মানসিক ভাবে দৃঢ় ও আত্নপ্রত্যয়ী করে তুলতে হবে। যাতে পরবর্তী পরীক্ষা গুলোতে, পূর্ববর্তী পরীক্ষার ছোটখাটো ভুল ত্রুটির কোন প্রভাব না পড়ে।
৬) এখানে প্রতি বিষয়ে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর পযর্ন্ত এ+ নির্ধারিত। যে ছাত্র বা ছাত্রী ৮০ নম্বর পায়, এবং অপর জন যদি ১০০ নম্বর পায়, তবে দুজনের মধ্যে ২০নম্বর পার্থক্য থাকলেও দুজনের গ্রেড এ+ হবে। তাই পূর্ববর্তী পরীক্ষার কথা চিন্তা না করে, অভিভাবক নিজে ও তাঁর সন্তানকে সান্ত¦না দেয়া উচিত।
৭) একইভাবে বৃত্তি প্রাপ্তির প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে, যা সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে। তাই উচ্চ নম্বর উত্তোলনের জন্যে চলমান পরীক্ষা গুলোর গুরুত্ব কম নয়।
৮) পরীক্ষার্থীর অবশিষ্ট বিষয়সমূহের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী তাদের নিজেদের খাওয়া-দাওয়া চলাফেরা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তক নেয়া প্রয়োজন। একই সাথে সময়মত ঘুম ও বিশ্রাম সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
এখন কথা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসাবে স্বীকৃত। তাই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হিসাবে এবং অপেক্ষাকৃত কচিকাচা শিক্ষার্থী হওয়ায়, স্বাভাবিক ভাবে এই পরীক্ষার গুরুত্ব যেমন বহন করে, একই সাথে মানসিক চাপও অনুভব হয়।
এখানে সমাপনী পরীক্ষার্থীদের তিন ধরনের ছাত্র ছাত্রী, যেমন – উত্তম, মধ্যম ও দুর্বল শিক্ষার্থী। তাদের যার যার অবস্থানে নিজেদের চাপ থাকে। কেউ বৃত্তি পাবার জন্যে চাপ, কেউ এ+ পাবার জন্যে চাপ, আবার কেউ অকৃতকার্য হয়ে একই ক্লাসে পুনরাবৃত্তি না হবার জন্যে মানসিক চাপ পরিলক্ষিত হয়। তাই তাদের মানসিক ভাবে দৃঢ় ও আত্নবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার দায়দায়িত শিক্ষক, মাতা-পিতা ও অভিভাবক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের। বিষয়টি পরীক্ষার সাথে জড়িত সবাইকে মনে রাখতে হবে।