পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জনের টেকনিক

15

মানুষের জীবনটা বৃক্ষতুল্য। একে সাজাতে হয় নানাভাবে। সুশোভিত করতে হয় ফুলে-ফলে। জীবনকে ফুলে-ফলে সুশোভিত করতে চাই ঐকান্তিক সাধনা ও প্রাণান্তকর চেষ্টা। শিক্ষাজীবনে পরীক্ষা হলো এমনই এক চেষ্টা ও সাধনার সিঁড়ি। শিক্ষাজীবনের সফলতা-ব্যর্থতা বহুলাংশে নির্ণয় করা হয় পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে, অন্তত আমাদের দেশে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্বাভাবিক নিয়মে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। সকল শিক্ষার্থীই চায় ভালো বা কাক্সিক্ষত ফল অর্জন করতে। পরীক্ষার খাতায় লেখার ওপর নির্ভর করেই মান যাচাই বা মূল্যায়ন করা হয়।
সকল শিক্ষার্থীর মেধা সমান নয়। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপনের অভাবে কাক্সিক্ষত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। মেধাবী হলেই ভালো বা কাক্সিক্ষত ফল করা যাবে এ ধারণা মোটেই সঠিক নয়। কিছু কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে মেধার ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। আর এসব কৌশল নিয়েই আজকে সহজ ও ভিন্নভাবে লেখাটা সাজিয়েছি। যা আপনাদের পরীক্ষায় সুফল বয়ে আনতে সক্ষম।
* পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ
১। প্রশ্নপত্রের নম্বরের আলোকে উত্তর লেখার জন্য সময় বন্টন করা
শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার অনেক আগেই প্রশ্নপত্রের নম্বরের আলোকে উত্তর লেখার জন্য সময় বন্টন করে নিতে হবে।
২। বণ্টনকৃত সময়ের আলোকে উত্তর লেখার প্র্যাক্টিস/ অভ্যাস করা
পরীক্ষার্থীকে বণ্টনকৃত সময়ের মধ্যে উত্তর লেখার প্র্যাক্টিস বা অভ্যাস করতে হবে, যাতে সে আলোকে পরীক্ষার হলে সকল প্রশ্নের উত্তর লেখতে সক্ষম হয় এবং সময়ের অভাবে কোন উত্তর লেখা বাদ পড়ে না যায়।
৩। পরীক্ষার স্থান (কেন্দ্র), সময় ও রুটিন জানা
পরীক্ষার স্থান/কেন্দ্র, পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়ার সময় এবং রুটিন/সময়সূচি অর্থাৎ কোন বিষয়ের পরীক্ষা কোন দিন হবে তা পরীক্ষার্থীর জানা থাকা অত্যাবশ্যক। পরীক্ষা শুরুর আগের দিন পরীক্ষার সময়সূচি ভালোভাবে দেখে নেয়া প্রয়োজন।
৪। পরীক্ষার রাতে অধিক না জাগা
পরীক্ষার রাতে বেশি সময় জাগ্রত থাকার চেয়ে পরিমিত ঘুমানো উচিত, যাতে করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঘুমের ভাব না থাকে এবং মস্তিস্ক শান্ত থাকে। পরীক্ষার আগের রাতে অধিক পরিমাণে জাগ্রত থাকার কারণে অনেকের জন্য ভালোভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
৫। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও টেনশনমুক্ত ফাইনাল বা চূড়ান্ত রিভিশন
শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা উদ্বেগ ও টেনশনের কারণ। পরীক্ষার আগের রাতেই সকল পরীক্ষার্থী চূড়ান্ত বা ফাইনাল রিভিশন দিয়ে থাকে। চূড়ান্ত রিভিশন কালে কোন কিছু মনে না এলে, মুখস্থ করতে কোন বিষয় বাদ পড়ে গেলে, জানা বিষয় ভুলে গেলে উদ্বেগ বা টেনশন নেয়া উচিত নয়। এতে সময় অপচয়, মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি হওয়া ব্যতিত কোন উপকার হতে পারে না। উদ্বিগ্ন হলে কোন অজানা বিষয় জানা হয় না, বরং জানা বিষয় ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য পরীক্ষার আগের রাতে টেনশন, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠামুক্ত ফাইনাল রিভিশন দেয়া উচিত।
৬। পরিমিত ঘুম ও বিশ্রাম নেয়া
পরীক্ষার আগের রাতে শরীর ও মনকে পরিমিত বিশ্রাম দেয়া দরকার। পড়তে পড়তে মাথা জ্যাম করে পরীক্ষার হলে যাওয়ার চেয়ে ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষার হলে যাওয়া উত্তম।