পরিবেশের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে বেঁচে থাকতে চায় বৃক্ষপ্রেমিক বাবুল

হাটহাজারী প্রতিনিধি

45

যশ, খ্যাতি বা স্বীকৃতির জন্য নয়, পরিবশের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে বিগত প্রায় ১০-১২ বছর ধরে গাছের চারা বিতরণ করে যাচ্ছেন হাটহাজারী উপজেলার ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ফতেয়াবাদ গ্রামের মৃত ইসহাক সওদাগর পুত্র নুরুল হক বাবুল। ছোট-বড়, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলের কাছে সে বৃক্ষপ্রেমিক বাবুল নামে বেশ পরিচিত। প্রকৃতির সাথে তার যেন হৃদ্যতার বন্ধনকে আরো বেশি সুদৃঢ় করার প্রকৃত মানসে শুধু নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করে উক্ত গ্রামের আবদুল কাদের দপ্তরী বাড়ির বৃক্ষপ্রেমী বাবুল উপজেলা জুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তার দেখাদেখি আশেপাশে অনেক মানুষও উদ্বুদ্ধ হয়ে গাছ লাগাতে শুরু করেছে। স্বল্প আয়ের বৃক্ষপ্রেমিক বাবুল বিগত ১০-১২ বছরে নিজের ব্যক্তিগত অল্প আয়ের টাকা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনকে হাজার হাজার নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করেছেন। অল্প উর্পাজন করেও যে ইচ্ছা থাকলে মানুষ ও পরিবেশের কল্যাণ করা যায় তিনিই তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশের পর নানা কারণে তেমন বেশি পড়াশুনা করতে পারেনি বাবুল। দেশে-বিদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল ও দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের খরচে নারিকেল গাছের চারা ক্রয় করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে বিতরণ করে যাচ্ছে। তিনি এমন মহৎ উদ্যোগকে সামনে রেখে দেশ মাতৃকার তরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বৃক্ষপ্রেমিক বাবুল এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি গাছকে ভালবাসেন তার দুই সন্তান রাতুর ও রুহিতের মত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করে যেতে চান পরিবেশের এই পরম বন্ধু। এমন মহৎ উদ্যোগ পেছনে তার আসল উদ্দ্যেশ্য কি জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, বৃহৎ কোন উদ্দেশ্য নয়।
শুধু মাত্র পল্লী ও প্রকৃতির অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে বেচেঁ থাকার অভিপ্রায় মাত্র। রোপনকরা চারা গাছ সময়ের বিবর্তনে বৃক্ষে পরিণত হয়। এ বৃক্ষ কেবলমাত্র মানুষ বেচেঁ থাকাবস্থায় উপকার করে তা নয়। এ পৃথিবী থেকে মানুষ চির বিদায় নেওয়ার পরও রোপনকৃত ফলজ গাছের ফল যখন কোন প্রাণী যদি ভোজন করে তাহলেও এর জন্য সওয়াব পাওয়া যায়। অর্থাৎ বেঁচে থাকা মানুষ যতদিন ওই গাছের ফল খাবে ততদিন গাছটি যে দান করেছে বা রোপন করেছে তার রূহেও সওয়াব পৌঁছবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সর্বশেষ চলতি মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্ধশতাধিক নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করেছে ফুটন্ত গোলাপ নামে একটি সংগঠনের ফতেয়াবাদ শাখার প্রতিটি সদস্যদের মাঝে। এছাড়া আরো বেশ কিছু নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করেছে সাধুর পাহাড় আশ্রম ও নন্দির হাট নেহালপুল আশ্রমসহ উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে। এ ব্যাপারে ফতেয়াবাদ এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বৃক্ষপ্রেমী বাবুল ভাই এর দেওয়া নারিকেল গাছের চারাগুলো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা নিয়ে গিয়ে নানা স্থানে রোপন করছে। ফলে এ গাছগুলো একদিকে পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য মঙ্গলজনক হবে। অন্যদিকে রোপন করা এসব নারিকেল গাছের ফল কয়েক বছর পর মানুষ ভোগ অথবা বাজারে বিক্রি করে তার আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারবে।