‘পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে’

18

মহানগরীসহ পুরো চট্টগ্রামে অভিযানের নামে পরিবহন মালিক শ্রমিককের হয়রানির অভিযোগ করছেন চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। গত সোমবার দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন। মালিক গ্রুপের কার্যকরী সভাপতি জহুর আহম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অধীন সকল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বর্তমানে পরিবহন সেক্টরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসনের চলমান অরাজকতা বন্ধ না হলে পরিবহন ধর্মঘটের হুমকী দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অতিরিক্ত মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুচ কোম্পানি, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম, জাফর আহমদ, অহিদুন নুর কাদেরী, যুগ্ম সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, অর্থ সম্পাদক (সিটি বাস) কলিম উল্লাহ কলি, মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম সমু, মো. শাহজাহান, সিরাজ-উ-দ্দৌলা নিপু, সুমন, টিটু তালুকদার, রিটন মহাজন প্রমুখ। সভায় অসুস্থ মহাসচিব আবুল কালাম আজাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন গাড়ির কাগজপত্র যাচাই ও টো বাণিজ্যের নামে মামলা ও বিভিন্ন ধরণের হয়রানি চালাচ্ছে। বিআরটিএ ও পুলিশের হয়রানি বন্ধ না হলে অচিরেই চট্টগ্রামে পরিবহন সেক্টর বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। এসময় নেতৃবৃন্দ ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে বলেন, চলমান অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য গণ ও পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। সাম্প্রতিক ছাত্রদের আন্দোলনের নামে কিছু অছাত্রের চাপে পরিবহনের যে আইন করা হয় ও মালিকদের মামলাসহ হয়রানি করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাছাড়া ছাত্রদের আন্দোলনের অযুহাত দেখিয়ে রাতারাতি নতুন আইন প্রণয়ন করে দিনে দিনে বলবৎ করারও কোন যৌক্তিকতা নেই।
সম্প্রতি টিআইবি দুর্নীতি সম্পর্কে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা একপ্রকার ধামাচাপা দিতে উল্টো পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্চে তাতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া বিগত ২০১৪ সালে দেশের রাজনৈতিক দুর্যোগময় সময়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা গাড়ি চালিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিলেন। এতে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু ও গাড়ি পোড়ানো হয়েছিল। সাধারণ মালিক শ্রমিকদের জানমালে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছি। জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রæপের কার্যকরী সভাপতি জহুর আহম্মদ বলেন, ‘বর্তমানে পুরো চট্টগ্রামে অভিযানের নামে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসনের অরাজকতা চলছে। গাড়ির ডকুমেন্ট যাচাইয়ের নামে মালিক-শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ হয়রানি বন্ধ না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিবহন সেক্টর ধ্বংস হয়ে যাবে। তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আগামী ধর্মঘটে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না।’ বিজ্ঞপ্তি