চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদক

পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

ইকবাল ফারুক, চকরিয়া

32

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘন্টা অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পান দুদকের কর্মকর্তারা। দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম এ অভিযান চালায়।
অভিযান শেষে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে দুদক কর্মকর্তারা বলেন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজা ২০০৬ সালে এ হাসপাতালে যোগদান করে ১৪ বছর ধরে চাকুরি করছেন। তিনি পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করলেও একচ্ছত্রভাবে হিসাবরক্ষক ও ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দুদক কর্মকর্তারা বলেন, হাসপাতালের জেনারেটরটি বিগত ১০ বছর ধরে বিকল থাকলেও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভালো দেখিয়ে এর তেল ক্রয় বাবদ প্রচুর টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে কোনো ধরণের লগ বুক তৈরি না করে প্রতি বছর ২০ হাজার টাকা করে দুই বছরে ৪০ হাজার টাকা জেনারেটরের তেল খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসপাতালের কর্মচারীদের ডরমেটরীতে বাড়ি ভাড়া কম দিতে এমএলএসএস এর নামে বাসা বরাদ্দ দেখিয়ে পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স লাকী ঘোষ
সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন।
দুদক কর্মকর্তারা আরও বলেন, হাসপাতালের আশপাশ পরিস্কার করার নাম দিয়ে নামে-বেনামে মাস্টার রোল কর্মচারী নিয়োগ দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদক কর্মকর্তারা টানা ৪ ঘন্টা ধরে হাসপাতালে অভিযান চালালেও ওই সময়ে কোনো মাস্টার রোল কর্মচারীকে দুদক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত করতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও পরবর্তীতে বিধি বহির্ভূতভাবে হাসপাতাল এলাকার সবগাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ফলে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এ ব্যাপারে দুদক কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও নানা কারণ দের্খিয়ে বুধবার মাত্র দুইজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে দুদকের অভিযোগ সেন্টার ১০৬ নাম্বারে এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মের সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এসব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ অফিসিয়াল কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করায় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।