পরর্বিতনরে হাওয়া লগেছেে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রে

সরোজ আহমেদ

14

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। শুরু হয়েছে মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্প্রচার। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের ৫ দিনের অনুষ্ঠানমালায় এই কেন্দ্রের সক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে। ফলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের গতানুগতিক, মানহীন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচার নিয়ে দীর্ঘদিনের বদনাম ঘুচলো বটে।
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নবনিযুক্ত জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এই কেন্দ্রে। অনুষ্ঠান নির্মাণ, সম্প্রচার থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসেছে নতুনত্ব। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নানা অভিযোগের বিষয় মাথায় রেখে পরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি আধুনিক, দর্শকবান্ধব পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র হিসেবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
শুরুতেই ঈদের অনুষ্ঠান নির্মাণে যথেষ্ট পরিপক্কতা ও পরিকল্পনার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। নতুন এই জিএ’র নেতৃত্বে টেলিভিশনের প্রযোজক, কলাকুশলী, শিল্পীসহ সকলে নব উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন।
ফলে এখন যোগ্যতা অনুযায়ী শিল্পীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলছে। তাই শিল্পী, কলাকুশলীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠেছে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র।
মানহীন অনুষ্ঠান, সিন্ডিকেট, লোকবল সংকট, অব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে সম্ভাবনাময় এই টেলিভিশন কেন্দ্রটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। তাই প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন হয়ে ওঠতে পারেনি চট্টগ্রামবাসীর বহুকাক্সিক্ষত এই কেন্দ্রটি।
নুরুল আজম পবন দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসের মাথায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে অনুষ্ঠানমালায়। যার প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয় পাঁচ দিনব্যাপী প্রচারিত ঈদ অনুষ্ঠানমালায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় নুরুল আজম পবনের প্রযোজনা এবং হিমাদ্রী রাহার গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘জনপ্রতিনিধির ঈদ’ অনুষ্ঠানটি। যেখানে ওঠে আসে নগরপিতা আ জ ম নাছির উদ্দীন ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের শৈশব-কৈশরের ঈদ ও তাঁদের জীবনের বাঁকে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা দুর্ঘটনার কথা।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধির ঈদ নিয়ে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বোধহয় এটাই প্রথম অনুষ্ঠান। এই ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে টেলিভিশনের মান বাড়াবে।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আগে কখনো এই ধরণের উদ্যোগ দেখিনি। আশা করবো ব্যতিক্রমী এবং নতুন চিন্তাধারার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দর্শকপ্রিয় হবে।
ঈদুল ফিতরে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রচারিত ৫দিনের দর্শক নন্দিত অনুষ্ঠানগুলো হল-শিশু কিশোরদের বিশেষ ম্যাগাজিন ‘ছোটদের ঈদ আনন্দ’, ঈদ সংগীতানুষ্ঠান ‘চাঁদের পালকি’, ‘নৃত্যের ছন্দে ঈদ আনন্দ, কমেডি শো ‘হাসবো না হাসাবো না’, ‘ঈদ আড্ডা’, ছোটদের নাটক ‘ইচ্ছে পূরণ দোত্যি’, ‘বাংলা কাওয়ালী’, ‘ঈদের নাটক নিয়ে আড্ডা’, ‘ঈদ সংগীতানুষ্ঠান’, আঞ্চলিক গানের অনুষ্ঠান ‘দুজনে কুজনে’।
সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা জানান, দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশনের আমেজ বিরাজ করছে। কর্মমুখর পরিবেশে প্রকৃত শিল্পীরা অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বেড়েছে অনুষ্ঠানের সংখ্যা এবং মান। এভাবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হলে অচিরেই এই টেলিভিশন কেন্দ্র অতীতের সব দূর্নাম ঘুচিয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা পাবে।