পবিত্র রমজান মাসে পানি সংকট

39

গ্যাস পানি ছাড়া নগরজীবন অসহ্য। পবিত্র রমজান মাস। সেহরি-ইফতার নিয়ে অধিকাংশ পরিবারকে ব্যস্ত থাকতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে সেহরির খাবার তৈরি করতে হয়। আবার নির্দিষ্ট সময়েই ইফতারের খাবার রেডি করতে হয়। গ্যাস আর পানি না থাকলে চলে না। বিশেষত রমজান মাসে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ নগরজীবনের অপরিহার্য তিন বস্তু ছাড়া, রমজানে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না। ইফতারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে- কি অবস্থা হয় তা আর বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। ইফতার তৈরি করতে গৃহিণীরা রান্না ঘরে ঢুকলেন- কিন্তু লাইনে গ্যাস নেই- বুঝেন কি অবস্থা। ওয়াসার পানি সংকট তৈরি হলো তখন রান্না, গোসল, ওজু কিছুই চলে না। এভাবে পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের নগরজীবন অসহ্য হয়ে পড়ে। বেশ কদিন থেকে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের পাশাপাশি পানি সংকটে ভোগছে নগরবাসী। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে যা বিস্তারিত এসেছে- আগ্রাবাদ, হালিশহর, চাক্তাই, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুরসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। জনগণ পানি সংকটে অতিষ্ঠ। এমতাবস্থায় ওয়াসার সাথে যোগাযোগ করে কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা দির্ঘায়িত হলে জনগণের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। এ ব্যাপারে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে পবিত্র রমজান মাসে জরুরি ভিত্তিতে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণ সারাবছর ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে পানির বিল প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে রমজানের কথা মাথায় রেখে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাইপ লাইনের কাজ তার নিয়মিত গতিতে চলবে। যত দ্রুত সম্ভব পাইপ লাইনের কাজ দ্রæত সম্পন্ন করার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে যেসব এলাকায় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে সেসব এলাকায় জরুরি পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া ওয়াসা কর্তৃপক্ষের জন্য খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। পবিত্র রমজান মাসে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সমস্যা খুবই বিড়ম্বনার ব্যাপার।
আমরা মনে করি গ্যাস, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সচেতন হলে জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট থেকে রেহাই পাবে। রমজানের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যেসব এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সেসব এলাকার দুর্ভোগ লাঘবে আপদকালীন ব্যবস্থাসহ দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করতে এগিয়ে আসা জরুরি।