পবিত্র রমজান জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক ধৈর্য্য ও তাকওয়ার পরিবশে

10

আজ ১৪৪০ হিজরি সনের রমজান মাসের প্রথম দিন। সেয়াম সাধনার মাস রমজান। বছরের বার মাসের মধ্যে মুসলমানদের জন্য পবিত্র রমজান মাসের স্বতন্ত্র গুরুত্ব রয়েছে। এ পবিত্র মাসে মুসলিমরা সারাদিন রোজা রাখে, রাত্রে তারাবিহ পড়ে, গভীর রাত্রে তাহাজ্জুদ পড়ে। দিনে ও রাতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে সময় কাটায়। মুত্তাকিদের জন্য রজমান মাস মূলত ইবাদতের মাস, আর এ মাসের শেষ সপ্তাহে পবিত্র লাইলাতুল কদরের পূণ্যময় রজনী রয়েছে। যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রমজান একদিকে ইবাদত বন্দেগীর মাস, অন্যদিকে আত্মশুদ্ধির মাস। পবিত্র এই মাসে আমরা রোজাদার নর-নারীর দৈহিক সুস্থতা কামনা করছি। দেশের ধর্মপ্রাণ নর-নারী সুন্দর ভাবে একমাস রোজা পালন করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য অর্জন করুক এ কামনা আমাদের।
বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাসের প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালন করতে হবে আমাদের। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা সকল রোজাদারের স্বাভাবিক নিরাপত্তা কামনা করছি। রমজান মাসের প্রথম দশদিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন বরকতের আর শেষ দশদিন মাগফিরাতের। রহমত-বরকত-মাগফিরাতের এ মাসকে দেশের মানুষ তাদের স্বভাবে ধৈর্য্য, কর্তব্য বোধ, সততা, মানবতাবোধ ও সার্বজনীন কল্যাণ চিন্তা জাগ্রত করার মহা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর এই মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে খোদাভীতির পাশা-পাশি দৈহিক ও আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে দেশের মানুষ পবিত্র স্রষ্টার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে পারে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র হলো স্রষ্টাকে হাজির জেনে প্রতিটি সত্ত¡ার সার্বজনীন কল্যাণ চিন্তায় বিশুদ্ধ হওয়া। রোজাদার অদৃশ্য স্রষ্টাকে হাজির জেনে দিনের বেলা পানাহার বন্ধ রাখে। পানাহার বন্ধরাখা ছাড়াও পবিত্র রমজানে মুসলিমদের সব ধরনের মন্দকাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অন্যায়, জুলুম নির্যাতন এবং অমানবিক ও অসমাজিক কার্যকলাপ থেকে নিজেদের ইচ্ছাকে রক্ষা করে বিশুদ্ধ আত্মার আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের সাধনাই হলো প্রকৃত সিয়াম সাধনা। মিথ্যা কথা লোকঠকানো মানসিকতা, মালামাল বিক্রয়ে ওজনে কম দেওয়া, সরকারি অফিসে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ঘুষ নেওয়া, খাদ্যে ভেজাল মেশানো পরের হক ধ্বংস করা ইত্যাদি অপকর্ম থেকে নিজের জীবনকে ফিরিয়ে নিয়ে আনার জন্য পবিত্র রমজান মাস খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। খোদাভীতি নর-নারীর জীবনচারণে বিশুদ্ধতা আনয়ন করে। এদেশের মুসলিমরা পবিত্র এই রমজান মাসে সেয়া সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য্য ও সহনশিলতার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিজেদের সত্যিকারের মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিকে পরিণত করতে পারে। কবি বলেন, ‘কোথায় স্বর্গ/কোথায় নরক/ কে বলে তা বহুদূর / মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক / মানুষেতে সুরাসুর’ । মানব সেবা এবং সার্বজনীন মানব কল্যাণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র রমজান মাসে এদেশের মুসলিমরা কায়মনোবাক্যে সততা-নিষ্ঠার পবিত্র সিয়াম সাধনা করে নিজের ও জাতির কল্যাণ করে আনুক এ কামনা আমাদের ।
আসুন রমজান মাসে আমরা প্রকৃত মুসলমান ও মানুষ হয়ে ওঠি।