পত্রিকার মাধ্যমে প্রদত্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ‘স্লিপ’ বরাদ্ধ এখন শিক্ষার্থী ভিত্তিক

লিটন দাশ গুপ্ত

14

শিক্ষার্থী। এছাড়া কিছু সংখ্যক বিদ্যালয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এবং অতি অল্প সংখ্যক বিদ্যালয়ে সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী আছে। বিভিন্ন ধরণের বিদ্যালয়ে, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অবকাঠামো, পরিবেশ বিভিন্ন রকম। তাই একই পরিমান অনুদান স্কুল ভিত্তিক সুষম হলেও উল্লেখিত শিক্ষার্থী শিক্ষক অবকাঠামো অনুযায়ী সুষম বন্টন হচ্ছেনা।
এই বিষয়ে আমার প্রস্তাব, শিক্ষার্থী ভিত্তিক বার্ষিক স্লিপ অনুদান প্রদান। এখানে প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে মাথা পিছু হিসাব করে অর্থ বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। যেমন- শিক্ষার্থী প্রতি,স্লিপ গ্র্যান্ট ১০০ টাকা করে নির্ধারণ বিষয়টি চিন্তা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অতি কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয় এবং অতি বেশী ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের মধ্যে তুলনামুলক বেশী বৈষম্য দেখা দিলে, অন্যভাবেও ভাবা যেতে পারে। যেমন- ১০০ বা এর চেয়ে কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যে ১৫ হাজার টাকা; ১০১ থেকে ২৫০জন ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যে ২৫ হাজার টাকা; ২৫১ থেকে ৫০০ জন ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যে ৫০ হাজার টাকা; ৫০১ থেকে ১০০০ জন ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যে ৭৫ হাজার টাকা; এক হাজার উপর ছাত্র-ছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্যে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা করে বার্ষিক স্লিপ গ্র্যান্ট দেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। সেই অনুযায়ী গত ২১ মার্চ ’১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত স্লিপ গাইড লাইনে প্রস্তাব কিছুটা পরিবর্তন করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ পর্যন্ত হলে ৫০ হাজার টাকা, ২০১ থেকে ৫০০ পর্যন্ত ৭০ হাজার, ৫০১ থেকে ১ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্যে ৮৫ হাজার টাকা, ১হাজার উপর ছাত্রছাত্রীর জন্যে ১ লক্ষ টাকা।
ঐ সময় আরো বলেছিলাম, যেহেতু বিদ্যালয়ে বেশী ছাত্রছাত্রী হলে ভৌত-অভৌত অবকাঠামোগত ব্যাপকতা থাকে, তাই খরচের ক্ষেত্রেও কাজের ক্ষেত্র বা পরিধি বেশী পাওয়া যায়। এছাড়া বেশী শিক্ষার্থী হলে বরাদ্দ বেশী; তাই শিক্ষক, এসএমসি, পিটিএ সবার অধিক শিক্ষার্থী ভর্তির আগ্রহ সৃষ্টি হবে, সংশ্লিষ্ট সকলেই শিক্ষার প্রতি আরো প্রেষিত হবে। এতে করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, ঝরেপড়া হ্রাস পাবে, অভর্তিও শূন্যকোটায় চলে আসবে, একই সাথে বিদ্যালয়ের মধ্যে একটা আন্তঃ প্রতিদ্বন্ধিতা সৃষ্টি হবে। এখানে বরাদ্দের পরিমান ৩/৪ বছর পর হ্রাস বৃদ্ধি করে বৈচিত্রতা আনা প্রয়োজন। কারণ স্লিপের লক্ষ্য হচ্ছে আগের মত সর্বসাধারণ বা জনগণকে বিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা; তাই যে বিদ্যালয়ে জনগণের সহায়তা ও সম্পৃক্ততা বেশী থাকবে, সেই বিদ্যালয়ও স্লিপ গ্র্যান্টের অনুদানের ক্ষেত্রে হ্রাস-বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ভাবে অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া আরো বিভিন্নভাবে পরিবর্তন, পরিমার্জনের মাধ্যমে স্লিপ কার্যক্রমকে জনগনের সম্পৃক্ততা নিয়ে সহজ, সরল গতিশীল করা যেতে পারে। এই হচ্ছে আমার সেই সময়ের লেখার একাংশ। যা আমার প্রস্তাব এই বারের স্লিপ গাইড লাইনে গৃহীত ‘স্লিপ’ মানে হচ্ছে স্কুল লেভেল ইম্প্রুভমেন্ট প্ল্যান। অর্থাৎ বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট খাটো সমস্যা সমাধানের জন্যে সরকার থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে। আর এর স্লিপের লক্ষ্য হচ্ছে- ‘স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারি স্লিপ গ্র্যান্টের পাশাপাশি স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল গঠনপূর্বক বিদ্যালয়ের কাঙ্খিত সার্বিক উন্নয়ন সাধন করে একীভুত, সুষম ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা’।
আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবছর নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। যা শিক্ষক এসএমসি সহ সংশ্লিষ্ট সকলে অবগত। আর প্রত্যেক বছর প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এই বরাদ্ধ হচ্ছে চল্লিশ হাজার টাকা। অথচ এখানে দেখা যায়, দেশে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিভিন্ন রকম। অধিকাংশ স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একশ এর কাছাকাছি; অর্থাৎ একশ এর কিছু কম বা বেশী। আবার এমনও বিদ্যালয় আছে যেখানে এক হাজারের বেশী শিক্ষার্থী। এছাড়া মাঝামাঝি পর্যায়ে চার/পাঁচ শত শিক্ষার্থী তো আছেই। এত রকম বিদ্যালয়ে প্রতি বছর প্রদান করা হয় একই পরিমান বরাদ্ধ যা চল্লিশ হাজার টাকা। এই বিষয়ে দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখার পর এবার প্রতিফলন ঘটেছে, পরিবর্তন এসেছে এই প্রকল্পের টাকা বরাদ্ধের ক্ষেত্রে। সরকার গ্রহণ করেছে আমার প্রস্তাব।
গত ০৬ সেপ্টেম্বর ’১৬ ইং তারিখ দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় এই বিষয়ে প্রস্তাব করেছিলাম, লিখেছিলাম স্লিপ সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ। সেখানে বলেছিলাম, আমাদের দেশে এমন কিছু বিদ্যালয় আছে যেখানে প্রকৃত ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫০/৬০ জন। সেখানে প্রতিবছর এত টাকা ঐ নির্দ্দিষ্ট খাতে খরচ করা সম্ভব হয়ে উঠে না, (নির্দ্দিষ্ট খাত মানে স্লিপের টাকা কোন কোন কাজে খরচ করা যাবে তার নির্দেশনা)। এছাড়া স্বাভাবিক ভাবে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ১০০ থেকে ১৫০ বা ২০০ এর মত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এখানে উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে পিএসসি পরীক্ষার নম্বর বিন্যাস, গণিত পরীক্ষায় গণিতে প্রতি ধাপে নম্বর বন্টন, শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো নিষিদ্ধ করণসহ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বেশ কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। হয়ত অনেকে বলতে পারে, চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকায় আমার এই লেখা রাজধানী ঢাকায় অবস্থান বা কর্মরত নীতিনির্ধারণী মহল পর্যন্ত পৌছল কিভাবে? এই বিষয়ে বলতে চাই বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। এখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ (ফেসবুক) বিভিন্ন মাধ্যমে, অনেক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে লিংক রয়েছে। যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ লেখা সমূহ পত্রিকা থেকে আমি ফেসবুকে শেয়ার করে থাকি, নিশ্চয় আমার এই লেখা কর্তৃপক্ষ বা শীর্ষস্থানীয় কোন না কোন সদস্যের বা কারো না কারো দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এইছাড়া আরো একটি বিষয় বলে রাখা প্রয়োজন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিগুরুত্বপূর্ণ লেখা, পত্রিকার কপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি। যেমন- প্রাইমারীতে শতভাগ উপবৃত্তি পাবার বিষয়টি।
এরপরেও যদি কারো মনে সংশয় থেকে থাকে, সমালোচকরা সমালোচনা করতেই থাকে; বৈরীব্যক্তির প্রশ্ন উত্থাপন শেষ না হয়; তাহলে তাদের বাঁকা প্রশ্নের আমার সোজা উত্তর হচ্ছে, উল্লেখিত মাধ্যমে আমার প্রস্তাব সমূহ যদি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত না হয়ে, তাঁেদর (কর্তৃপক্ষের) নিজস্ব সিদ্ধান্ত আমার সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে বলা হয়, তাহলে তাদেরও বুঝতে হবে আমি আজ যা চিন্তা করি বা ভাবি, তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চিন্তা করে বা ভাবে ৩/৪ বছর পর। কারণ আমার ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশিত হবার ৩/৪ বছর পর বাস্তবে প্রতিফলন বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ তারই প্রমাণ।