পটিয়া সরকারী কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক

87

প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক গত ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পটিয়া সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ছিলেন। শিক্ষক হিসাবে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় তথা একজন আইকন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি ছাত্র জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসাবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু ভিপি জমির উদ্দিন এবং তৎকালীন ছাত্রনেতা ও বর্তমানের শ্রমিক নেতা বকতেয়ার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেন। সরকারী কলেজের শিক্ষক হিসাবে চাকুরীতে যোগদানের পরও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল থাকার কারণে ২০০২ সালে ও ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে তাঁকে দুবার চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ভোলায় শাস্তিমুলক বদলি করা হয়।
২০০৫ সালে ভোলা ফজলিতুন্নেছা সরকারী কলেজ থেকে চট্টগ্রাম কলেজে বদলির আদেশ হলে তাঁকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক বলে চট্টগ্রাম কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে থাকাকালীন শিক্ষক পরিষদ নির্বাচনে জামাত শিবির সম্পর্কিত প্রার্থী জামাতের রোকন প্রফেসর সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে শিবিরের হুমকির মুখে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী বিজয় দিবস পালনের উদ্যোগ নিলে ছাত্র শিবিরের বাধার মুখে তিনি সম্পাদক হিসাবে অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয় দিবসকে সফল করেন। ২০০৯ সালে ছাত্র শিবির নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী প্রথম ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের উদ্যোগ নিলে ছাত্র শিবিরের প্রবল বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক হিসাবে অধ্যক্ষকে সর্বাত্বক সহযোগিতা প্রদান করায় ছাত্র শিবির ক্যাম্পাসে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মিছিল শ্লোগান দেয়- ‘মোজাম্মেলের চামড়া তুলে নেব আমরা।
জাফরের চামড়া তুলে নেব আমরা’। এছাড়াও ২০১৩ সনে চট্টগ্রাম কলেজের শিবির নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল নির্মাণ ও উদ্বোধনে অন্য কেউ সাহস এগিয়ে না আসায় তৎকালীন অধ্যক্ষ শেখর দস্তিদারকে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করেন ও কমিটির আহবা য়কের দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে বর্তমানে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ কমিটির তিনি আহবায়ক। পটিয়ার তীক্ষ্ম মেধাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও সাংসদ এবং সংসদের মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী সেই প্রফেসর মোজাম্মেল হককে পটিয়া সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগের সুপারিশ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৬ই ফেব্রুয়ারীর প্রজ্ঞাপন আদেশে প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক অদ্য ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রি. তারিখে পটিয়া সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অকুতোভয় সৈনিক ঐতিহ্যবাহী পটিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করায় পটিয়াবাসী অভিনন্দন জানাচ্ছে।