প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

পটিয়ায় স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশের প্রস্তুতি আ.লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক

36

পটিয়া কলেজ মাঠে আগামী ২১ মার্চ স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবার এ জনসভাকে নির্বাচনী শোডাউন হিসেবেও দেখাতে চায় দলটি। এ উপলক্ষে কাল শনিবার যৌথ বর্ধিত সভা করবে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। জনসভায় ৬ লাখ মানুষের সমাগম করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এজন্য প্রস্তুতি নেয়াও শুরু হয়েছে।
জানা যায়, প্রথমে নগরীতে জনসভাটি হওয়ার কথা থাকলেও ভেন্যু না পাওয়ায় পরবর্তীতে পটিয়া কলেজ মাঠে করার সিদ্ধান্ত হয়। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই এ জনসভা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে দক্ষিণ জেলার নেতাদের অবগতও করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জনসভাকে সামনে রেখে কাল শনিবার বর্ধিত সভা আহবান করা হয়েছে। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ যৌথভাবেই এ বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। সভায় করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ২১ মার্চ পটিয়া কলেজ মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত এ জনসভা দক্ষিণ জেলার উদ্যোগেই হচ্ছে বলে কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ধিত সভাটি আগেই নির্ধারিত ছিল। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যৌথভাবে এ বর্ধিত সভা আহবান করেছে।
জানা যায়, বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসডিয়াম সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে এ জনসভা হলেও নগরী ও উত্তর জেলা থেকেও নেতাকর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হবেন। বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে তারা সেখানে যাবেন। তিন সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দ জনসভা সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তর জনসভায় পরিণত করতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্তত ৬ লাখ লোকের সমাগম করতে চান নেতৃবৃন্দ। এ জন্য প্রস্তুতি নেয়াও শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসভা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিকে এ জনসভাকে নির্বাচনী শোডাউন হিসেবে দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য জনসমাগম যাতে বেশি হয় সেজন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন নেতারা। বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করবেন। দক্ষিণ জেলার সাত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের আনার চেষ্টা করবেন। এছাড়া নেতারাও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালাবেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জনসভায় উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও জানাবেন তিনি।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। আরো উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগামে উপজেলা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ফটিকছড়িতে।