পটিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ঘাতকের আত্মহত্যার চেষ্টা

পটিয়া প্রতিনিধি

47

স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক তরুণ। গতকাল শনিবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের খানমোহনা বেলতল এলাকায় রেল লাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর লোকজন পটিয়া থানায় খবর দিলে পুলিশ আহত তরুণকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া হাসপাতালে ও পরে সেখান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে বিপত্তি বাধে নিহতের ঘটনাস্থল নিয়ে। পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনার সাথে সাথে সেখানে গেলেও ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানাধীন মনে করে লাশটি উদ্ধার করা থেকে বিরত থাকে। পরে রেলওয়ে পুলিশ ও পটিয়া থানার ওসি মেজরমেন্ট টেপ দিয়ে ঘটনাস্থলের মাপজোখ করে নিশ্চিত হয় যে, ঘটনাস্থল পটিয়া থানা এলাকায়। সীমানার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় পটিয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নিহত স্কুলছাত্রীর নাম রিমা আক্তার (১৩)। সে উপজেলার হাইদগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং হাইদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলমের মেয়ে। মেয়েটিকে হত্যাকারী তরুণের নাম মোহাম্মদ মাসুদ (১৭)। পেশায় সে রাজমিস্ত্রি। তার বাড়ি পটিয়া পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডস্থ আমিরভান্ডারের পুরাতন বাড়ি এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের পাশে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকার বেলতলে নিহত স্কুলছাত্রীর গায়ের উপর তরুণটি মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। নিহত ছাত্রী ও তরুণের গলায় ছুরির আঘাতের চিহ্ন। পাশেই পড়ে রয়েছে পুরনো একটি ছুরি এবং নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যাগ। ছাত্রীটিরর পরনে ছিল স্কুলের পোশাক।
হাইদগাঁও স্কুলের শিক্ষক শ্যামল কান্তি জানান, ওই ছাত্রীর পরনে স্কুলের পোশাক ও ব্যাগ থাকলেও গতকাল স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। প্রায়ই মেয়েটি স্কুলে অনুপস্থিত থাকতো। তবে কি কারণে বা কিভাবে ওই ঘটনা ঘটেছে তা তিনি জানেন না।
দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য জায়েদুল হক জানান, স্কুলছাত্রী ও তরুণকে রেল লাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। এরপর পুলিশ এসে দেখে তরুণটি জীবিত আছে। তাই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করে।
পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, বেঁচে থাকা তরুণকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। সীমানা নিয়ে সন্দেহ থাকায় তা নিশ্চিত হতে গিয়ে লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হয়। রেললাইন থেকে ১১ ফুট দূরে ছিল লাশের অবস্থান। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী স্লিপারের ১০ ফুটের মধ্যে রেলওয়ে থানার এক্তিয়ারভুক্ত। ওই সীমানার বাইরে লাশের অবস্থান হওয়ায় পটিয়া থানা লাশটি উদ্ধার করে। হত্যার প্রকৃত ঘটনা কি তিনি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, নিহত ছাত্রীটির পরিবারের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে আসেনি। তারা পুলিশের সাথেও কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। একইভাবে আহত তরুণটির পরিবারের কোন সদস্যের সাথেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাই কি কারণে বা কিভাবে ওই ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি। ওই ঘটনায় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।