পটিয়ায় সরকারি স্কুলে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড নিয়ে ক্ষোভ

পটিয়া প্রতিনিধি

19

পটিয়া পৌর সদরের ৭নং ওয়ার্ডের অবস্থিত বাহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ভবনে জালাল-মাবিয়া স্ট্রাস্ট নামের ব্যক্তিগত একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছবি ভাইরাল হয় এবং এ সংক্রান্তে একটি অভিযোগ গত সোমবার পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহের বিল্লাহ বরাবরে দায়ের করা হয়েছে। সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ দুই পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহের বিল্লাহ জানান, সরকারি স্কুলে ব্যক্তি ট্রাস্টের নামে সাইনবোর্ড দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, বাহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলালের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান জালাল মাবিয়া ট্রাস্টের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। সাইনবোর্ডটিতে স্কুলের নামের সাথে সৌজন্যে ট্রাস্টের সংযুক্ত করা হয়। অথচ এ স্ট্রাস্ট থেকে স্কুলের ভবটি নির্মাণ করা হয়নি। পৌরসভা যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথমে সাইনবোর্ড অপসারণ করার দাবি জানান। এরপর থেকে ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক ও স্ট্যাটাস দেয়া শুরু হয় এবং তা চলমান রয়েছে। সাইনবোর্ড ইস্যুতে কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল ও যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সাউনবোর্ড ইস্যুতে এদের উভয়ে পেছনে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি স্কুলে তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। সাইনবোর্ডটির কারণে স্কুলের ভবন ওই স্ট্রাস্ট থেকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে বুঝানো হয়। অথচ ভবনটি সরকারি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল জানান, কয়েকজন যুবক অভিযোগের নামে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করছে। তারা ফেসবুকে বিভিন্ন অপ্রচারও চালাচ্ছেন। সঠিক সময়ে তাদের সবকিছুর জবাব দেওয়া হবে। যে ভবনে সৌজন্যে জালাল- মাবিয়া স্ট্রাস্ট উল্লেখ করে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে সেটি স্ট্রাস্ট থেকে নির্মাণ করা হয়েছে কিনা কাউন্সিলরের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভবন নয়, সাইনবোর্ড স্কুলকে উপহার দেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার দিলে তাতে সৌজন্য রেখা হয়। ঠিক তেমনি সাইনবোর্ড উপহার দেয়া হয়। উপহারে সৌজন্য লেখা যায় এবং সে হিসেবে তিনিও সৌজন্যে জালাল- মাবিায়া স্ট্রাস্ট লিখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইনবোর্ডটি এখন স্কুলের সম্পত্তি।