পটিয়ায় ভূমি অফিসে নামজারীর শুনানিতে এক জনকে ছুরিকাঘাত

পটিয়া প্রতিনিধি

17

পটিয়ায় ভূমি অফিসে নামজারীর আবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তির শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে এক জনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ছুরিকাঘাতের পর আজিম (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিকে চমেক হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২ টায় ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পটিয়া পৌর সদরে ৫নং ওয়ার্ড এলাকার ছদু তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা আবদুর রশিদের পুত্র। আহতের পিতা আবদুর রশিদ বিরোধীয় জমি নামজারীর আবেদনকারী মোহাম্মদ মুছার কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই জমি নামজারীর জন্য তিনি ভূমি অফিসে আবেদেন করেন। আবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দেয় বিক্রেতার পুত্র সরোয়ার। আপত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ গতকাল শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটে।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া পৌর সদরে ৫নং ওয়ার্ড এলাকার ছদু তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা আবদুর রশিদ তার ভাতিজা মোহাম্মদ মুসার কাছে পাকা ভবনসহ একটি জমি বিক্রি করেন। উক্ত জায়গা ক্রয়ের পর নামজারীর জন্য মুসা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন করে। মুসার নামে নামজারী খতিয়ান সৃজন না করতে আবেদনের বিরুদ্ধে রশিদের পুত্র সরোয়ার আজিম আপত্তি দেন। ওই আপত্তি সংক্রান্তে গতকাল মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে শুনানির দিন ধার্য্য ছিল। সেখানে শুনানিতে অংশ নিতে উভয় পক্ষ হাজির হয়। বিরোধের বিষয় নিয়ে সেখানে মুসা ও সরোয়ারের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ সময় ছুরিকাঘাতে সরোয়ার মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে সরোয়ারের পিতা ও উপস্থিত লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতের মা কহিনুর আকতার জানান, এম এ মুছা, ইউনুচ ও ফারুকের নেতৃত্বে ৫-৬ জন সন্ত্রাসী তার ছেলেকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। সে বর্তমানের চমেক হাসপাতালে মৃত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এ বিষয়ে এম এ মুছা জানান, এ ঘটনার সাথে আমরা কেউ জড়িত নয়। ভূমি অফিসে কয়েক জন যুবক সরোয়ার আক্রমণ করে। আমিসহ হামলাকারীদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করি। জায়গা নিয়ে এখানে কোন ঘটনা ঘটেনি। শুনেছি বিপিএল খেলার বাজি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এ মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাব্বির সানি থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। গতকাল সন্ধ্যায় পটিয়া থানার ওসি শেখ নেয়ামত উল্লাহ জানান, এ সংক্রান্তে এখনো থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরোয়ারের পিতা আবদুুর রশিদ জানান, তার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। তিনি চিকিৎসা কাজে হাসপাতালে রয়েছে। তাই থানায় এখনো অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি।