নৌ পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঈদগাঁও বাঁশঘাটা ব্রিজ নির্মাণে ধীরগতি

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও

13

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও বাঁশঘাটা ব্রিজ নির্মাণে কচ্ছপগতি ও নদী পারাপারে অস্থায়ী খেয়াঘাটে গলাকাঁটা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার সুযোগে ও নৌ পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার কারণে স্থানীয় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রুগী থেকে শুরু করে মহিলাদের এক কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে ঈদগাঁও বাজারে। স্থানীয়রা জানান, বিগত বছর দেড়েক পূর্বে ব্রিজটি ধেবে যায়। এতদিন বিভিন্নভাবে নদী পারাপার করলেও স্থানীয়রা এ বর্ষার মৌসুমে সকলের সহযোগিতায় কাঠের তক্তা দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের কিছুদিন পর টানা বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সাঁকোটি ভেসে যায়। ফলে দুয়ার খুলেছে কিছু অসাধু চক্রের। খেয়া ঘাটের মাঝি আবু তাহের জানান, পথচারীদের নদী পারাপারে বসানো হয়েছে নৌকা। যেটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টেন্ডার হয়েছে ৫ লক্ষ ১২ হাজার টাকা দিয়ে। যাওয়া আসা জনপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট টাকা নেয়া হয়না। তবে এলাকাবাসির অভিযোগ ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়াও ব্রিজটি বাজেট হওয়ার প্রায় দু’বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থনীয়দের মাঝে। স্থানীয়রা ব্রিজ নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নৌকা ভাড়া নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছেন। ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক জানান, ঠিকাদার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে সে জন্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ তদারকি করছি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে কোন অভিযোগ তিনি পাননি বলে জানান। ব্রিজ নির্মাণ কাজের সাব-কন্ট্রাক্টর রবিউল আলম জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে যাবতীয় মালামাল থাকার পরেও কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ব্রিজের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে।
কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো যাতে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানান, ব্রিজ নির্মাণে কেন ধীরগতি হচ্ছে তা জানতে সংশ্লিষ্টদের নিকট চিঠি দেয়া হবে। অস্থায়ী খেয়া ঘাট টেন্ডারের ব্যাপারে আমি অবগত জানিনা। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে তা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।