নৌ-পরিবহন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম বন্দর প্রকৃত আন্তর্জাতিকতায় হতে পারে ভাস্বর

19

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর দেশের রাজস্ব আয়ের প্রধান ক্ষেত্র। এ বন্দরের প্রতি প্রতিবেশি দেশসমূহ ছাড়াও এশিয়ার জাপান, চীনসহ ইউরোপ-আমেরিকার আগ্রহও কম নয়। দেশিয় মহা পরিকল্পনার অভাবে বন্দরটি যে পরিমাণ আয়ের উৎস হওয়ার কথা তা হয়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিক ভাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বিশ্বের একটি গুরুত্ব পূর্ণ বন্দর। সিঙ্গাপুর শুধু বন্দরকেন্দ্রিক আয়ের কারণে অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের যথাযথ পরিচর্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ দেশ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশের তকমা অর্জন করতে পারে।
আমরা জানি কর্ণফুলী নদীতে পরিচর্যার অভাবে চর পাড়ছে বিস্তর। অবৈধ দখলদারের কারণে ভরাট হচ্ছে নদীর বিভিন্ন স্থান। আর অনুমোদিত এবং অননোমোদিত স্থাপনার দৌরাত্ম্যে দেশের আয়ের প্রধান উৎস চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর তার স্বাভাবিক শক্তি প্রদর্শনের উপযোগী হয়ে উঠছে না। বন্দরের আধুনিকিকরণে যে পরিমাণ উন্নত প্রযুক্তি ও সদূর প্রসারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তার কিঞ্চিত মাত্র বাস্তবায়ন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। অন্য দিকে অর্থ-মন্ত্রণালয়ের বন্দর সম্পর্কিত বরাদ্দ বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে। যা সম্প্রতি তৎসম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়নে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় হীনতার কথা উঠে এসেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলামের বক্তব্যে।
তিনি আগামী ৫০ বছরে বন্দরের সম্ভাব্য কর্ম পরিকল্পনার বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কেননা চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। মংলা ও পায়রা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগী বন্দর মাত্র। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়কে আরো আন্তরিক ও সমন্বয় সাধনের কথাও বলেছেন নৌ পরিবহন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। আসলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে আগামীর কথা মাথায় রেখে এগুতে হবে আমাদের। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম বিচার বিশ্লেষণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বে-টার্মিনাল নির্মাণে সিতাকুÐের কুমিরা পর্যন্ত বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি দিক নির্দেশনা খুবই জরুরি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তবে অর্থ-মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় সাধন করতে উভয় মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের উপর ভর করে দেশ শুধু মধ্য-আয়ের দেশ নয়, উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতে পারবে এমন ধারণা বন্দর বিশেষজ্ঞদের। আরো কিছু সমস্যা চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে। সেগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ আন্তরিকতায় সমাধান করা কোন কঠিন বিষয় নয়। বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে কাস্টমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথেও আন্তরিক সমন্বয় সাধন জরুরি। আমরা চাই চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর একটি বিশ্বের আদর্শ সমুদ্রবন্দর হয়ে উঠোক। এটা করতে দেশের বাইরে যে সব দেশে উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবী। আসলে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে চট্টগ্রাম বন্দরকে এগিয়ে নিতে হবে দ্রæত। এ বন্দর একদিন দেশের অর্থনীতির সূচক পরিবর্তন করে দেবে অভাবনীয় মাত্রায়Ñ এটাই আমাদের বিশ্বাস।